Categories
অর্থনীতি

৮৭ টাকার মিষ্টি খেয়ে লাখ টাকা পুরস্কার

ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) চালানের ২০ তম লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ওয়েলফুড থেকে ৮৭ টাকার মিষ্টি খেয়ে প্রথম পুরস্কার জিতেছেন চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনআরবি) সম্মেলন কক্ষে ইএফডি চালানের লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে লটারির নম্বর ঘোষণাকালে এ তথ্য জানায় এনবিআর সদস্য (মূসক মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন) মইনুল খান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক নীরিক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) ড. আব্দুল মান্নান শিকদার।

আগস্ট মাসের চালানের ওপর ভিত্তি করে এই লটারির ড্র অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। গত মাসে ইএফডি যন্ত্র ব্যবহার করে যারা কেনাকাটা করেছেন তাদের কেনাকাটার চালানপত্র কূপন হিসাবে লটারিতে ব্যবহার করা হয়।

ইএফডি চালানের লটারিতে প্রথম পুরস্কার ১ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা ও তৃতীয় পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা (পাঁচটি)। এছাড়া চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৯৩ জনকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

এবারের ইএফডি লটারিতে প্রথম পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত নম্বর হলো- 003622QAZLC050

দ্বিতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লটারির নম্বর হলো- 001322TDTZDFX705

তৃতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লটারির নম্বরগুলো হলো- 002322FTKECBD653, 001122SNBFEFL846, 000122HLRKXLB516, 000322GQRSLVJ457, 000122HTEEMBP150,

লটারির ড্র এনবিআরের ওয়েবসাইট প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া তিন কার্যদিবস পর পত্রিকায় ফল প্রকাশ করা হবে।

চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৮৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইএফডি যন্ত্র বসিয়েছে এনবিআর। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ৩ জন প্রথম পুরস্কার নিয়েছেন। আর ১০৩ জন লটারির পুরস্কার পেয়েছেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ইএফডি চালানের লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। তখন ১০১ জন বিজয়ীর ইনভয়েস নম্বর ঘোষণা করা হয়। ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) মেশিনের মাধ্যমে ভ্যাট প্রদানকারীদের পুরস্কৃত করতে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়।

ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) মেশিন চালু করে এনবিআর।

ইএফডি হলো আধুনিক হিসাবযন্ত্র। এটি ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টারের (ইসিআর) উন্নত সংস্করণ। এ যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত লেনদেন বা বিক্রির তথ্য জানতে পারছে এনবিআর। এর মধ্যে কত অংশ ভ্যাট তা জানা যাবে। ফলে ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ হবে এবং আদায় বাড়বে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৈনিক লেনদেনের তথ্য তদারকিতে রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারের সঙ্গে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে ইএফডি মেশিন। এজন্য ইতোমধ্যে সার্ভার স্থাপন করা হয়েছে।

Categories
অর্থনীতি

বাড়ছে দরিদ্র ও কোটিপতি দুটোই

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তেমনি সংকটকে পুঁজি করে বাড়ছে কোটিপতিও। সরকারি হিসাবে মানুষের মাথাপিছু আয়ের যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তার বড় অংশই নির্দিষ্ট কিছু মানুষের পকেটে যাচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যেও ছোট প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বৃহৎ শিল্পের হার বাড়ছে।

ফলে সামগ্রিকভাবে দেশে বাড়ছে বৈষম্য। বৈষম্যের বিষয়টি সরকারি বিভিন্ন তথ্যেও উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে বেশ কিছু মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবে। আর পরিস্থিতির উত্তরণ না হলে সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে আয় বৃদ্ধির সঙ্গে বৈষম্য বেড়েছে। এটি শুধু আয়ে নয়, ভোগে, সম্পদে এবং সুযোগে রয়েছে বৈষম্য। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এই বৈষম্য ব্যাপক। এতে সরকারের নানা কর্মসূচি সত্তে¡ও শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারছে না এবং বাল্যবিয়ে বাড়ছে। আগামীতে পুষ্টিহীনতা আসতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি কোনো দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য খুবই প্রকট হয়, আয়ের বৈষম্য বাড়ে এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যোগ হয়, তবে সে দেশে সামাজিক অসন্তোষ বাড়তে পারে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নেতিবাচক মিথস্ক্রিয়ায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। ল্যাটিন আমেরিকাতে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় দুটি ধাক্কা এসেছে। প্রথমত করোনার কারণে সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান কমেছে। দ্বিতীয়ত ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আরেক দফা আঘাত এসেছে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির ৯টি মৌলিক সূচকের ৮টিই নিæমুখী। এতে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। কিন্তু এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ সম্পদের দিক থেকে মোটাতাজা হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের তথ্য অনুসারে করোনার আগে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু করোনাকালে বেড়ে হয়েছে ৪২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অতি দারিদ্র্য। ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে তিন গুণ বেড়ে এটি ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

সিপিডি গবেষণা অনুসারে, করোনায় কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ও আয় কমেছে। ফলে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও অস্ট্রেলিয়ার ওয়াল্টার এলিজা হল ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় ৪৭ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। পরিবারগুলোর ৭০ শতাংশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। অর্থাৎ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সব সংস্থার রিপোর্টই বলছে, দেশে দরিদ্রের সংখ্যা বাড়ছে।

অপর দিকে বাড়ছে কোটি পতির সংখ্যাও। চলতি ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবধারীর সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ৫৯৭ জন। কিন্তু ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬ জন। এ হিসাবে তিন মাসে কোটিপতি বেড়েছে ১ হাজার ৬২১ জন। আর ২০২১ সালের মার্চ শেষে কোটিপতি হিসাবধারী বেড়ে ৯৪ হাজার ২৭২ জনে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম  বলেন, এক দিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্য দিকে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। এর মানে হলো দেশে আয়ের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এটি অশুভ লক্ষণ। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এটি বন্ধ হলে কোটিপতি সংখ্যা আরও বাড়ত।

সরকারি তথ্য বলছে, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৫ জন। ১৯৭৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৭ জন। আর ১৯৭২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ৩৬ বছরে দেশে কোটিপতি সৃষ্টি হয়েছে ১৯ হাজার ১৫৮ জন, ২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ১২ বছরে তা ৭৪ হাজার ১২৭ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৮৯০ জনে। অর্থাৎ ৩৬ বছরে যতজন বেড়েছে, ১২ বছরে বেড়েছে তার প্রায় ৫ গুণ। সরকারি হিসেবে দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছে।

বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৫ মার্কিন ডলার। আর চলতি অর্থবছরে মাথা পিছু আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০৭ ডলার। এই আয়, উচ্চ মধ্যম আয়ের কাছাকাছি। এ ছাড়াও গত ৫ বছরে মাথাপিছু আয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু সঙ্গে পাল­া দিয়ে বাড়ছে বৈষম্য। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের আয় বাড়ছে।

এ ব্যাপারে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, অর্থনীতিতে বড় সমস্যা হলো বৈষম্য। এই বৈষম্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, কিছু ভিন্ন চিত্র রয়েছে। যেমন মাথাপিছু আয়ের অনুপাতে দেশে করদাতা বাড়ছে না। এখনো বাংলাদেশে কর জিডিপি অনুপাত, এখন যা আছে, তা দ্বিগুণ হতে পারে। তিনি বলেন, মাথা পিছু আয় বাড়লে করদাতা বাড়বে। কিন্তু সেটি বাড়ছে না।

জানা গেছে, মাথাপিছু আয়ের ৪টি খাত। কৃষি, শিল্প, সেবা এবং প্রবাসীদের আয় (রেমিট্যান্স)। অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সঙ্গে রেমিট্যান্স যোগ করলে জাতীয় আয় পাওয়া যায়। আর জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। সরকারি হিসাবে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ ডলার। প্রতি ডলার ১০০ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় যা ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এ হিসাবে গড়ে একজন নাগরিক প্রতি মাসে ২৩ হাজার ৫০০ টাকার উপরে আয় করেন। তবে বিভিন্ন জরিপ বলছে বর্তমানে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য সর্বকালের সর্বোচ্চ।

অন্য দিকে করের হিসাবে বৈষম্য বোঝা যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ। দেশে বতর্মানে দেশের করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে ৭৩ লাখ। আর মাত্র ২৩ লাখ মানুষ আয়কর দেয়। বর্তমানে কর আদায় জিডিপির ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় যা সবচেয়ে কম। সিপিডির গবেষণা বলছে, দেশে বৃহৎ শিল্পের হার বাড়ছে। ২০১০ সালে জিডিপিতে বড় ও মাঝারি শিল্পের অংশগ্রহণ ছিল ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ১৮ দশমিক ৩১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু ২০১০ সালে জিডিপিতে ক্ষুদ্র শিল্পের অংশগ্রহণ ছিল ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর ২০১৮ সালে তা মাত্র ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ হয়েছে। এর অর্থ হলো, শিল্প খাত বড় ব্যবসায়ীদের দখলে।

Categories
অর্থনীতি

অভিযোগ করে ভোক্তার আয় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা

প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে পণ্য বা সেবা কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ভোক্তা। এমন অবস্থায় ভোক্তা স্বার্থ বা অধিকার ক্ষুণ্ন করায় এখন পর্যন্ত এক লাখ ৩৩ হাজার প্রতিষ্ঠানকে ৯২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি)।

পাশাপাশি গত ১৩ বছরে অধিদপ্তরে অভিযোগ করে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি পেয়েছেন অভিযোগকারীরা। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার অংশ থেকে পুরস্কার হিসেবে তাদের এই টাকা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়োজিত সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ২৪তম সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের চেয়ারম্যান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সভায় জানানো হয়, অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বাজার তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে এক লাখ ৩৩ হাজার ২৪৯ প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অপরাধে ভোক্তা আইনে ৯২ কোটি ৭৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪২ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সময়ে গ্রাহকের দেওয়া অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ৭ হাজার ৮০৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ২০৮ টাকা জরিমানা করা হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, নিষ্পত্তি করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদায় করা জরিমানার ২৫ শতাংশ পুরষ্কার হিসেবে ৭ হাজার ৬৯৩ জন অভিযোগকারীদের দেওয়া হয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ টাকা।

২৯ সদস্য বিশিষ্ট পরিষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বিমা ব্যক্তিত্ব শেখ কবির হোসেন, এফবিসিসিআই এর সভাপতি জসিম উদ্দিন, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএসটিআই এর মহাপরিচালক ড. নজরুল আনোয়ার, জনপ্রশাসনে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সরকারের সাবেক সচিব মো. আবদুল মালেক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফেরদৌস আহমেদ, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলী, এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভাটি সঞ্চালনা করেন পরিষদের সচিব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

পরিষদের সদস্যরা শিশু খাদ্য, বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, নকল, ভেজাল ওষুধ পণ্যসহ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করতে পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণীত হয় এবং এই আইনের ১৮ ধরা মোতাবেক ২০০৯ সালের ৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের শক্তিশালী ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ গঠিত হয়।

Categories
অর্থনীতি

আগস্টেও রেমিট্যান্স ছাড়াল ২ বিলিয়ন ডলার

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন ছাড় ও সুবিধার সুফল মিলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে ২০৩ কো‌টি ৭৮ লাখ (২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশি মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ৯৫ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ১৯ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রবাসী আয় বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

একক মাস হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে রেমিট্যান্স কমলেও গত বছরের আগস্টের তুলনায় বেড়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮১ কোটি ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের জুলাই মাসে এসেছিল ২০৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। সে হিসাবে জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে ৬ কোটি ডলার বা ৩ শতাংশ কম এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৪১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এসেছে ৭৫ লাখ ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে এসেছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

এই মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪৩ কোটি ডলার। এরপর সিটি ব্যাংকে ১৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ১৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার, পূবালী ব্যাংকে ১১ কোটি ৪০ লাখ, ডাচ–বাংলা ব্যাংকে ১০ কোটি ১৬ লাখ ডলার এবং রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ডলার।

ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে আগস্ট মাসে কোনো রেমিট্যান্স পাঠাননি প্রবাসীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠান, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা।

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট নিরসনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধারাবাহিকভাবে কমাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৯৫ টাকা।

তবে বিভিন্ন ব্যাংক ও কার্ব মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ ব্যাংকগুলো আমদানি বিলের জন্য নিচ্ছে ৯৭ থেকে ৯৮ টাকা। নগদ ডলার বিক্রি করছে ১০৬ থেকে ১০৭ টাকা। আর ব্যাংকের বাইরে খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১০ টাকায়।

Categories
অর্থনীতি

সরকার ৬৫০ কোটি ডলার ঋণ চায়

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা হিসাবে বিভিন্ন দাতা সংস্থাগুলোর কাছে এ পর্যন্ত ৬৫০ কোটি (৬.৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

এরমধ্যে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার চাওয়া হয়েছে আইএমএফের কাছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার এবং এডিপির কাছে চাওয়া হয়েছে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার। ঋণ প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

ঋণ মঞ্জুরের পর অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হলে প্রকল্পসহ যে কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে। বাজেট সহায়তা হিসাবে পাওয়া ঋণে এ সুযোগ আছে এবং সরকার সেটা কাজে লাগাতে পারে। যদিও এ বছর ঘাটতি বাজেট পূরণের জন্য বিদেশি ঋণের প্রয়োজন প্রায় ১২শ কোটি (১২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট সহায়তার এ ঋণ পাওয়া গেলে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগের অর্থবছরে অনেক ধরনের প্রকল্প থাকে সেখানেও এ টাকা ব্যয়ের সুযোগ আছে। তবে ডলার সংকটের মধ্যে বিদেশি ঋণ পাওয়ার পর রিজার্ভ বাড়ানোর দিকেও সরকারের মনোযোগ থাকবে বলে তারা মনে করেন। অর্থাৎ দেশের মানুষের তেমন প্রয়োজন নেই এমন কোনো খাতে এ ঋণের টাকা ব্যয় হবে না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোও ঋণের টাকা ব্যয়ের বিরোধিতায় নামতে পারে এমন সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। গত অর্থবছরে (২০২১-২২) বাজেট সহায়তা হিসাবে আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে থেকে ৭৩২ কোটি (৭.৩২ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়া গেছে। এ টাকা সরকার নিজের প্রয়োজন মতো ব্যয় করেছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যসহ অন্যান্য দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। এতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫.৫ বিলিয়ন থাকলেও বর্তমানে ৩৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে। ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশীয় বাজারে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট কাটাতে সরকার বৈদেশিক ঋণের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন  বলেন, এখন আমাদের রির্জাভ বাড়ানো দরকার। বাজেট সহায়তা হিসাবে দাতা সংস্থাগুলোর থেকে ঋণ নিলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। এখন দেখতে হবে ঋণ দেওয়ার পেছনে কি ধরনের শর্ত দেওয়া হয়।

বাজেট সহায়তা ঋণকে প্রাধান্য দিচ্ছে : বিদেশি ঋণ দুভাবে নেওয়া হয়। এক বাজেট সহায়তা এবং দ্বিতীয় প্রকল্পের অনুক‚লে। বাজেট সহায়তার জন্য যে ঋণ নেওয়া হয় সেটি বৈদেশিক মুদ্রা আকারে স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারের কোষাগারে চলে আসে। এ অর্থ সরকারের প্রয়োজন ও ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় ব্যয় করতে পারে। এ টাকা যে কোনো প্রকল্পেও ব্যবহার করা যায়। আর প্রকল্পের অনুক‚লে বিদেশি ঋণ আসতে অনেক সময় লাগে। এছাড়া এককালীন না দিয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে দাতা সংস্থাগুলো অর্থ ছাড় করে থাকে। ওই অর্থ নির্দিষ্ট প্রকল্প ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার করা যায় না। এজন্য সরকার বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে দ্রুত অর্থ পেতে বাজেট সহায়তার ঋণকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

চলতি অর্থবছরে ঘাটতি বাজেট পূরণ করতে বিদেশি ঋণের সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। বৈদেশিক মুদ্রায় এর পরিমাণ ১১.৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আইএমএফের ঋণ নিয়ে আলোচনা বেশি : দাতা সংস্থা আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ক্রেডিটরস রেজিলিয়্যান্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ট্রাস্ট থেকে ঋণ পাওয়ার জন্য আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি জানান, বাংলাদেশে ৪১৬ কোটি ডলার সহায়তার অনুরোধ করেছে। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ব্লুমবার্গ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দুটি দাতা সংস্থার কাছে ঋণ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। প্রত্যেকের কাছে ১০০ কোটি ডলার করে চাওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বাজেটে সহায়তা হিসাবে জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকার সঙ্গেও ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণ সহায়তা চেয়ে গত মাসে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওয়াশিংটনভিত্তিক এ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিয়ান জর্জিয়েভাকে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে বাজেট সহায়তা হিসাবে ঋণ চাওয়া হয়েছে। আসন্ন আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক (আইএমএফ-বাংলাদেশ) আলোচনায় বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। অক্টোবরে ওয়াশিংটন ডিসিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। আর ওই সফরের মধ্যদিয়ে চ‚ড়ান্ত হবে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি। যদিও ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে ঋণ প্রদানে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে আইএমএফ। ৩ আগস্ট এটি জানিয়েছে সংস্থাটির ‘রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবল ট্রাস্ট (আরএসটি)। তবে বাংলাদেশ ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার (৪৫০ কোটি ডলার) ঋণ সহায়তা চাইলেও কী পরিমাণ অর্থ দিতে রাজি হয়েছে, তা উলে­খ করা হয়নি। সংস্থাটি একটি বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশকে কী পরিমাণ সহায়তা প্রদান করা হবে, তা এখনও আলোচনা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ঋণ পাওয়ার বিষয়টি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই সংস্থাটি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বিগত সময়ে রেকর্ড ভালো। এর আগেও আইএমএফ থেকে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। সার্বিক দিক ইতিবাচক হলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে সাড়া মিলবে।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের একটি সদস্য দেশ। এ পর্যন্ত আইএমএফ থেকে চারবার ঋণ নিয়েছে। এরমধ্যে প্রথমবার ঋণ নেওয়া হয় ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে। এরপর ২০০৩-২০০৪, ২০১১-১২ এবং সর্বশেষ ২০২০-২১ সালে সংস্থাটি থেকে ঋণ নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু এ বছরই বড় অঙ্কের ঋণ চাইছে সরকার। তবে ঋণ পেতে আইএমএফের দেয়া বেশকিছু শর্ত মানতে হবে। রাষ্ট্রের নীতিগত বিষয়ে সংস্কারের কিছু শর্ত দেওয়া হতে পারে। আর্থিক খাতের সংস্কারের এসব শর্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কায় অনেক সময় সরকার ঋণ নিতে চায় না।

আইএমএফের ঋণ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এমকে মুজেরি বলেন, আর্থিক সংকটে পড়লে আইএমএফ সহায়তা করে থাকে। এটি তাদের কার্যক্রমের অংশ। ইতঃপূর্বে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ এ সংস্থার কাছ থেকে ঋণ সহায়তা নিয়েছে। আইএমএফের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা হিসাবে ঋণ নেওয়া হলে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে কম ঋণ নিতে হবে। এতে সরকারের ঋণ ব্যয় কমবে। কারণ আইএমএফের ঋণের সুদের হার কম। দেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রার সংকট আছে। আমাদের প্রয়োজন তাদের ঋণ সহায়তা। এ ঋণ পাওয়া গেলে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে অনিশ্চয়তাও কাটবে।

Categories
অর্থনীতি

জ্বালানির দাম ৫ টাকা কমানো অব্যবস্থাপনার উৎকৃষ্ট উদাহরণ

জ্বালানি তেলের দাম ৩৪ থেকে ৪৪ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে ৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত অনৈতিক অব্যবস্থাপনার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 

তিনি বলেন, বিনিময় হার বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সঙ্গে অর্থ পাচারের সংযোগ থাকতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম ৩৪ থেকে ৪৪ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে ৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত অনৈতিক অব্যবস্থাপনার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ইআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শারমীন রিনভী। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ না হওয়া, কর আহরণের দুর্বলতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাব এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বৈষম্য, অর্থনীতির প্রধান বিচ্যুতি। এসব বিচ্যুতি ঠিক মোকাবিলা করা না গেলে পরবর্তী উত্তরণ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। একইসঙ্গে যে অর্জন হয়েছে সেটিও টেকসই হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদ বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল এবং সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশে এবং বিশ্বে এ রকম পরিস্থিতি হতে পারে তা আগেই বলা হয়েছিল। পাশাপাশি এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি স্থিতিকরণ কর্মসূচি জরুরি উল্লেখ করা হয়েছিল। যে কারণে জিডিপির অভিলাষ সংযত করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক ও বৈদেশিক লেনদেন নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিনিময় হার এবং মূল্যস্ফীতিতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা দ্রুত শেষ হবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল সমস্যা বৈদেশিক লেনদেনে নয়। মূল সমস্যা আর্থিক খাতের দুর্বলতা। প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ না হওয়া। যে কারণে জ্বালানিতে ভর্তুকি, দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি মূলত রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ দ্বারা ধাবিত। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। জিডিপির ২৩ বা ২৪ শতাংশে আটকে আছে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ৫ থেকে ৬ শতাংশ থেকে ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগও হয়নি। এফডিআই জিডিপির এক শতাংশের নিচে। যা গতিশীল অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট নয়।

দেবপ্রিয় বলেন, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বেশি হলে সেগুলোর সুবিধা নিয়ে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা ঘটেনি। বাংলাদেশের অবস্থা এক ইঞ্জিনে চলা উড়োজাহাজের মতো। যে বেশি দূর যেতে পারে না। কিছু দূর চলার পর রানওয়ে খুঁজতে থাকে।

তিনি বলেন, এক দশক ধরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে। এর অর্থ আয় বাড়ছে। তাহলে কর সংগ্রহ হচ্ছে না কেন? তাহলে কি সংগ্রহ করা হচ্ছে না নাকি হিসাবের গরমিল আছে। কর সংগ্রহ করতে না পারার কারণে এখন আমদানি করা যাচ্ছে না। খাদ্য সহায়তা বাড়ানো যাচ্ছে না। শুল্ক কমাতে পারছে না। পরোক্ষ কর থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করতে হচ্ছে বেশি। যা সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলছে।

দেবপ্রিয় বলেন, সরকার ভৌত অবকাঠামো যে পরিমাণ বিনিয়োগ করছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সেই বরাদ্দ থাকছে না। ২০টি মেগা প্রকল্পের জন্য জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। অথচ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকছে জিডিপির এক শতাংশ। শিক্ষাতেও সমপরিমাণ। রাজনৈতিক শক্তি বৈধতার জন্য খুব দ্রুততার সাথে দৃশ্যমান ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করতে চাচ্ছে। রাজনৈতিক ঘাটতি পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। কারণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগের ফলাফল আসতে দশকের বেশি সময় লাগে। রাজনৈতিক চক্রে এই সময় নেই। পাশাপাশি সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের কারণে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বৈষম্য হচ্ছে। করোনার সময় সহায়তা বিতরণে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা দিয়েছে। যার যা প্রাপ্য তা নথিভুক্ত হয়নি।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। বিশেষ জায়গা থেকে বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে মেধাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যক্তি বিনিয়োগ বিকশিত হচ্ছে না। এর ফলে ক্ষতি হচ্ছে সরকার, মানুষ ও দেশের। বিদ্যুৎ জ্বালানিতে প্রতিযোগিতার সুযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে। বিচারের সুযোগও তুলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাদের বিকাশে সব দেশেই লুণ্ঠন হয়। বাংলাদেশে প্রথমে আর্থিক খাতে লুণ্ঠন হয়েছে। পরে হয়েছে পুঁজিবাজারে। এখন সরকারি প্রণোদনায় অতিমূল্যায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠান লুণ্ঠন করছে। তবে লুণ্ঠনের পরে বিচার ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে তা দেখা যাচ্ছে না। এখানে প্রতিযোগিতার চেয়ে সংযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে জবাবদিহিতার জায়গা দুর্বল হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে প্রধান রাজনৈতিক শক্তির।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্জনও আছে, বিচ্যুতিও আছে। এই বিচ্যুতি অর্জনকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে বাংলাদেশ অনেক সমস্যা উত্তরণ করে এ অবস্থায় এসেছে। আশা করা যায়, আগামীতে সমস্যা উত্তরণ করে এগিয়ে যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি সংকটে নেই, তবে চাপে আছে। তবে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখন যে অস্থিরতা চলছে, তা সহসাই কাটবে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকবে। যারা বলছেন, শিগগিরই সংকট কেটে যাবে, তারা চটজলদি রাজনৈতিক চিন্তা থেকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। এতে বাজারে অস্থিতিশীলতা ও আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়।

Categories
অর্থনীতি

ডিজেলের আমদানি শুল্ক কমল

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে চাল ও ডিজেল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানিকারকরা এ শুল্ক ছাড় সুবিধা পাবেন।

রোববার এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিজেল আমদানিতে শুল্ক-কর ছিল ৩৪ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে ডিজেল আমদানি করতে মোট ২২ দশমিক ৭৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ শুল্ক রেয়াতি সুবিধায় চাল ও ডিজেল আমদানি করা যাবে।

এনবিআর জানিয়েছে, ডিজেল আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমানো হয়েছে এবং কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

ভর্তুকি কমাতে চলতি মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ ৫২ শতাংশ বাড়ায় সরকার। এরপর শুল্ক কমানোর দাবি ওঠে এবং এনবিআর আজ এই সিদ্ধান্তের কথা জানালো।

Categories
অর্থনীতি

নগদের সাফল্যে একটি মহল নাখোশ : মোস্তাফা জব্বার

ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদের সাফল্যে একটি মহল নাখোশ বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ থেকে একটি বিষয় লক্ষ্য করে আসছি। নগদের সাফল্যে একটি মহল বরাবরই নাখোশ। যেখানে নগদের কারণে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবার মান বেড়েছে এবং খরচ গত এক দশকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে, সেখানে কার স্বার্থে আঘাত লাগছে সেটি অনুমেয়? যেখানে নগদের কারণে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কোটি কোটি মানুষ অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে আসতে পারল, যার ফলশ্রুতিতে আজ দেশের শিশু-মহিলা-বয়স্ক- বিধবাসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা ঘরে বসে সমস্ত সরকারি ভাতা পাচ্ছে ডিজিটালি, ১০০ ভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে, তাহলে এতে কার ক্ষতি হলো?

রোববার (২৮ আগস্ট) এক তথ্য বিবরণীতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নগদ তার জাতীয় দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, এটি স্পষ্ট করে বলা দরকার যে নগদের জন্য ডাক বিভাগের কোনো ক্ষতি হয়নি বা হবেও না। ডাক বিভাগের সেবা হিসেবে নগদ তার জাতীয় দায়িত্ব পালন করছে। অনুগ্রহ করে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন  না বা গুজবে কান দেবেন না।

নগদের প্রতিটি পদক্ষেপ রাষ্ট্রের সমস্ত আইন এবং নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে কোনো অনিয়মের স্থান নেই। তাই নিজ স্বার্থে কেউ জল ঘোলা করার চেষ্টা করবেন না। নগদ দেশের সেবা, ডাক বিভাগের সেবা। দেশের মানুষের জন্য নগদের সঙ্গেই থাকুন।

Categories
অর্থনীতি

চাল কিনতে নাভিশ্বাস, সবজি মাছে আগুন

twitter sharing button

বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে ভুগছে ক্রেতা। মোটা চাল কিনতেই ব্যয় করতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫৮ টাকা। পাশাপাশি নতুন করে না বাড়লেও সব ধরনের সবজি ও মাছের দামে যেন আগুন।

গরু ও খাসির মাংস কিনতে অনেক ক্রেতারই সামর্থ্য নেই। বাজারে গুরুর মাংস প্রতিকেজি ৭০০ ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা। তাই মাংসের স্বাদ নিতে ব্রয়লার মুরগির দিকে ঝুঁকছের ক্রেতা। তবে দাম কিছুটা কমলেও এখনো কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব মিলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে ভোক্তার নাভিশ্বাস বাড়ছে।

রাজধানীর কাওরানবাজার, মালিবাগ বাজার ও নয়াবাজারে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ৫৫-৫৮ টাকা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্যমূল্য তালিকায়ও মোটা চালের কেজি সর্বোচ্চ ৫৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিকেজি বিআর ২৮ বিক্রি হয়েছে ৬০-৬২ টাকায়। প্রতিকেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৭০-৭৫ টাকা। প্রতিকেজি নাজিরশাইল চাল কিনতে ক্রেতাকে মানভেদে ৭৭-৯০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

রাজধানীতে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা। প্রতিকেজি শিম বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা, কাঁকরোল ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, করলা ৬৫-৭০ টাকা, চিচিংগা ৭০ টাকা, শসা ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটোল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। প্রতিপিস ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়ার ফালি ২০-৩০ টাকা, লেবুর হালি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি রুই মাছ বিক্রি হয়ছে ৩২০-৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৮০-২০০ টাকা। প্রতিকেজি শিং মাছ ৩৫০-৪৬০ টাকা, কৈ মাছ ২০০-২৫০ টাকা, পাবদার কেজি ৩৫০-৫০০ টাকা। পাশাপাশি প্রতিকেজি চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৮০০-১০০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের বেশি ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০০-১৮০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ ৯০০-১০০০ টাকা, ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকা।

কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. তানজিল হাসনাত বলেন, পণ্যের দাম এত বেশি হলে কী কিনব। সবকিছু অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খেয়ে বাঁচতে হবে তাই দাম বেশি হলেও কিনে খেতে হচ্ছে। তবে আগে যেভাবে ভালোমতো বাজার করতে পারতাম, তা এখন পারছি না। কারণ পণ্যের দাম বাড়লেও বেতন বাড়েনি। তাই নিত্যপণ্যের দর আমাদের ভোগাচ্ছে। খুব করে ভোগাচ্ছে।

এদিকে কিছুদিন আগে হঠাৎ বেড়ে যায় ডিমের দাম। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম কিনতে ক্রেতার ৫৫ টাকা গুনতে হয়েছে। এছাড়া পাড়ামহল্লার দোকানে ৬০ টাকাও বিক্রি হয়েছে। পরে বাজার তদারকির কারণে দাম কিছুটা কমেছে।

শুক্রবার প্রতি হালি ফার্মের ডিম ৪৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। আর ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজি। পাশাপাশি প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭০০-৭৫০ টাকা। খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকা কেজি।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, তদারকির কারণে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে। ডিমের কারসাজির পেছনে যারা জড়িত আমরা তাদের চিহ্নিত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চালের বাজারে অভিযান চলছে। কী কারণে ও কারা দাম বাড়িয়েছে আমরা তা বের করছি। পাশাপাশি সার্বিকভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Categories
অর্থনীতি

অর্থনীতিতে নতুন তিন সংকটের আভাস

দেশীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বিদ্যমান সংকট আরও বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে আরও নতুন তিনটি সংকট মোকাবিলার মুখোমুখিও হতে হবে।

এক. খাদ্য আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়াতে হতে পারে। যা আমদানি ব্যয়কে বাড়িয়ে দেবে। দুই. ইতোমধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হ্রাস পেয়েছে।

ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতেও মন্দায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এর প্রভাবে রপ্তানির অর্ডার বাতিল হচ্ছে। কমে যেতে পারে রপ্তানি আয়।

তিন. এলসি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বকেয়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধও। এতে বৈদেশিক মুদ্রা ও বিনিময় হারে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব মিলে আগামীতে অর্থনীতি আরও চাপে পড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, এখন সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে খাদ্য উৎপাদন কম হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবছর খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামও বেশি। যে কারণে আগামীতে খাদ্য আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। রপ্তানি কমার আভাসও মিলছে।

যা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারকে আরও অস্থির করে দিতে পারে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মেটাতে পারলে অনেক চাপ কমানো সম্ভব। এজন্য টাকা পাচার বন্ধ করতে হবে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে হুন্ডি বন্ধ করলে আরও সুফল মিলবে। বর্তমানে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পণ্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ বাড়তে পারে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য রাখতে সামনে খাদ্য আমদানি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

রপ্তানি আয় কমে গেলে তা আরও বড় বিপদের কারণ হবে। বকেয়া এলসি ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও চাপ প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে চারটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এক. ব্যাংকিং চ্যানেলে বা এলসির মাধ্যমে টাকা পাচার বন্ধ করতে কঠোর মনিটরিং করতে হবে।

ইতোমধ্যে এটি শুরু হয়েছে। তবে আরও বাড়াতে হবে। দুই. রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে হুন্ডি কমাতে হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমাতে হবে ও সহজ করতে হবে।

তিন. বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। চার. কৃষিতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেশের ভেতরে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে।

সূত্র জানায়, অর্থনীতিতে এখন নতুন করে বড় সংকটের আভাস দিচ্ছে রপ্তানি আয়। গত অর্থবছরে রপ্তানি আয় সাড়ে ৩৪ শতাংশ বেড়েছিল।

চলতি অর্থবছরেও এ খাতে আয় ১২ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু অর্থবছরের শুরুতেই ভিন্নচিত্র দেখা যাচ্ছে। বিদ্যমান মন্দায় ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে গেছে।

এ হার ঠেকাতে তারা সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে। ঋণের সুদের হার বাড়াচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

কমে গেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ফলে অনেক ক্রেতা পোশাকের অর্ডার বাতিল করছেন। এতে রপ্তানি খাতে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। রপ্তানিকারকরাও এ খাতে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে রপ্তানির আদেশ কমায় এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমে যাচ্ছে। এটি রপ্তানি শিল্পের জন্য অশনিসংকেত। রপ্তানি কমে গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় আরও সংকট বাড়তে পারে।

অথচ রপ্তানি আয় ১৩ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আমদানি ব্যয় কমাতে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও খুব বেশি ঠেকানো যাচ্ছে না।

গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। তবে এলসি খোলার হার গত জুলাইয়ে কমেছে ৯ শতাংশ ও আমদানি কমেছে ১২ শতাংশ।

এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে খাদ্য উৎপাদন কম হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। যদিও সরকার থেকে বলা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি। চাহিদার চেয়ে মজুত বেশি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে চাল ও গম উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ৮৭ লাখ টন। গত অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৮৯ লাখ টন।

২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে খাদ্যের উৎপাদন বেশি হয়েছে ১২ লাখ টন। কিন্তু চাহিদা বাড়ছে আরও বেশি। এদিকে খাদ্য আমদানি রেকর্ড পরিমাণে কমেছে।

গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম খাদ্য আমদানি হয়েছে গত অর্থবছরে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৬৭ লাখ টন। গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৫০ লাখ টন।

আমদানিতে ১৭ লাখ টন ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চাল আমদানির শুল্ক কমানো হয়েছে। আমদানিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডলারের সংকটে চালের এলসি খোলা যাচ্ছে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দামও বেড়েছে। ফলে আমদানি ব্যয়ও বেশি হবে। একই সঙ্গে গমের আমদানি ব্যয়ও বাড়বে। এতে আমদানিতে আবার চাপ পড়তে পারে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক গবেষণা পরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ এম আসাদুজ্জামান বলেন, অঞ্চলভেদে বন্যা ও খরার কারণে এবার ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। এখন আমদানি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, করোনার পর থেকে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় অনিষ্পন্ন দেনা বাড়ছে রেকর্ড পরিমাণে। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ৪০৭ কোটি ডলার।

আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৩১২ কোটি ডলার। এ খাতে দেনা বেড়েছে ৯৫ কোটি ডলার অর্থাৎ সাড়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আমদানির ক্ষেত্রে মোট অনিষ্পন্ন এলসির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৮৪ কোটি ডলার।

আগের অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৬৬৭ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে দেনা বেড়েছে ৭১৭ কোটি ডলার অর্থাৎ ২৭ শতাংশ। এ খাতের দেনা আগে কখনোই এত বেশি হারে বাড়েনি। এসব দেনা আগামীতে শোধ করতে হবে। এতেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, জুলাইয়ে এলসি খোলার হার কমেছে। ওই মাসে এলসি খোলা হয়েছে ৫৪৯ কোটি ডলার। চলতি আগস্ট থেকে তা বেড়ে যেতে পারে।

আগস্টে ৫৫০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ৫৫৭ কোটি ডলার হতে পারে। এদিকে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানি আরও কমতে পারে।

জুলাইয়ে ৯৭ কোটি ডলার, আগস্টে সামান্য বেড়ে ৯৮ কোটি ডলার হতে পারে। সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে ৮৫ কোটি ডলারে নেমে যেতে পারে। আগে এ খাতে ১১০ কোটি ডলারের বেশি এলসি হতো প্রতি মাসে।

রেমিট্যান্স গত অর্থবছরে ১৫ শতাংশ কমেছে। তবে জুলাইয়ে বেড়েছে ১২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স ১২ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য হুন্ডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের বিভিন্ন অংশ। এতে হয়তো সুফল পাওয়া যাবে।

তবে রপ্তানি কমে গেলে শুধু রেমিট্যান্স দিয়ে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য সামাল দেওয়া যাবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

সার্বিকভাবে গত দুই বছর ধরে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা খাতে সংকট প্রকট হয়েছে।

সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার আর্থিক হিসাবে গত অর্থবছরে নেতিবাচক হয়েছে ৫৩৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এ খাতে উদ্বৃত্ত ছিল ৯২৭ কোটি ডলার।