Categories
জীবনশৈলী

সব ক্যানসারের সেবা মিলবে বিএসএমএমইউয়ে : উপাচার্য

লিউকেমিয়াসহ সব ধরনের ক্যানসারের বিশ্ব মানের চিকিৎসাসেবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, লিউকেমিয়া হলো রক্তের ক্যানসার বা ব্লাড ক্যানসার, যা বর্তমান সময়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে হেমাটোলজি বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি এই আহ্বান জানান।

এ সময় উপাচার্য লিউকেমিয়া রোগ থেকে বাঁচতে লিউকেমিয়া রোগীর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কে রোগী, রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের মাঝে সচেতনতা তৈরির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত রোগী যাতে সহজে জরুরি চিকিৎসা সেবা, প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং চিকিৎসার অন্যান্য উপকরণ সুলভে পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এমনকি রোগ নির্ণয় এবং ঝুঁকি নির্ণয়ের সর্বাধুনিক ও প্রয়োজনীয় সুবিধাদি সহজলভ্য করতে হবে। এছাড়াও দেশে হেমাটোপরেটিক সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্ভিস আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

গ্লোবোক্যান ২০২০ এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২০ সালে সারা পৃথিবীতে নতুন করে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ এবং লিউকেমিয়ায় তিন লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে এক বছরে নতুন প্রায় ৩ হাজার মানুষের লিউকেমিয়া শনাক্ত হয় এবং দুই হাজারের বেশি মানুষের লিউকেমিয়ায় মৃত্যু হয়। লিউকেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা মূলত রক্ত স্বল্পতা, দুর্বলতা, রক্তপাত, জ্বর এসব উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেমাটোলজী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ। তিনি জানান, লিউকেমিয়ার ধরন অনুসারে চিকিৎসায় ভিন্ন হয়ে থাকে। লিউকেমিয়া একিউট ও ক্রনিক এই দুই ধরনের হয়ে থাকে এবং ধরনভেদে চিকিৎসায় ভিন্নতা হয়ে থাকে। রোগ নির্ণয়ের পরে রোগের ঝুঁকির পর্যায় বিবেচনা করে রোগের চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। সিবিসি, পিবিএফ ফ্লো সাইটোমেটি, বোন ম্যারো পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয় এবং সাইটোজেনেটিক ও মলিকুলার পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর ঝুঁকির স্তর সম্পর্কে ধারণা লাভ করা হয়।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে বলা হয়, মুখে খাবার ঔষধ, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রেডিয়েশন থেরাপির মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। রোগ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ঔষধের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে ঔষধের ডোজ পরিবর্তন করা হতে পারে। ক্রনিক লিউকেমিয়া মিত্র চিকিৎসায় সিএলএল ও সিএমএল চিকিৎসায় টার্গেটেড থেরাপি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এসব ঔষধের অধিকাংশই এখন আমাদের দেশে পাওয়া যায়।

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, রোগ বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনে হেমাটোপয়েটিক সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে রোগের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সম্ভব। উচ্চ ঝুঁকির অ্যাকিউট লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় হেমাটোপয়েটিক সেল ট্রান্সপ্লান্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সেমিনারে হেমাটোলজী বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. শারমিন ইয়াসমিন ও ডা. মীম জারিন তাসনিম প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান। সেমিনারে বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ছিলেন মেডিসিন অনুষদের ডিন হেমাটোলজী বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, হেমাটোলজী বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম ইউনুস ও অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুজ্জামান খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হেমাটোলোজি বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. মিলি দে ও ডা. মারুফ রেজা কবির।

Categories
জীবনশৈলী

পুরুষের গোপন রোগ

নেট আসক্তি ও জীবন যাপনে অনিয়মের কারণে পুরুষের গোপন রোগ বেড়েছে। হতাশাগ্রস্ত ও দুশ্চিন্তা যাদের গ্রাস করেছে তাদের এই সমস্যা প্রকট। 

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্বক, যৌন, সেক্স ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ এবং কসমেটিক সার্জন ডা. এ কে এম মাহমুদুল হক খায়ের।

পুরুষের অক্ষমতা বা দুর্বলতা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে উঠতি বয়সের যুবকরা রীতিমতো হতাশ। ফলে অভিভাবকরা বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এর মধ্যে অন্যতম পুরুষত্বহীনতা।

প্রকৃত অর্থে এটি পুরুষের যৌনকার্যে অক্ষমতাকেই বোঝায়। মূলত পুরুষত্বহীনতা তিন ধরনের।

১. ইরেকশন ফেইলিউর অর্থাৎ লিঙ্গের উত্থানে ব্যর্থতা।

২. পেনিট্রেশন ফেইলিউর অর্থাৎ লিঙ্গে যোনিদ্বার ছেদনে ব্যর্থতা,

৩. প্রি-ম্যাচুর ইজাকুলেশন অর্থাৎ সহবাসে দ্রুত বীর্য স্খলন বা স্থায়িত্বের অভাব।

এ সমস্যাগুলো হওয়ার কারণ হচ্ছে-বয়সের পার্থক্য, সঙ্গীকে অপছন্দ (দেহ-সৌষ্ঠর, ত্বক ও মুখশ্রী), দুশ্চিন্তা, টেনশন ও অবসাদ, ডায়াবেটিস, যৌনবাহিত রোগ, রক্তে সেক্স-হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যৌন রোগ বা এইডস ভীতি, নারীর ত্রুটিপূর্ণ যৌনাসন ও সেক্স-এডুকেশনের অভাব।

অনেকে হাতুড়ে ডাক্তারের খপ্পরে পড়ে বা স্বেচ্ছায় বিভিন্ন হরমোন ইনজেকশন নেয় বা ভুয়া ওষুধ সেবন করে। এটি মোটেই কাম্য নয়। পুরুষত্বহীনতার অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্চনীয়। সঠিক চিকিৎসা নিলে এ থেকে পরিত্রাণ মেলে।

Categories
জীবনশৈলী

এক দিনে ২৫১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৫১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একইসঙ্গে এই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সারাদেশে সবমিলিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৪ জনে।

বুধবার (৩১ আগস্ট) সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) ২৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ২০৩ জনই ঢাকার বাসিন্দা। এ সময়ে ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ভর্তি হন ৪৮ জন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা সর্বমোট ৭৮৪ জনের মধ্যে ৬৭৫ জনই ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর ঢাকার বাইরে রয়েছেন সর্বমোট ১০৯ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ (৩১ আগস্ট) পর্যন্ত হাসপাতালে সর্বমোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ১৮১ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৫ হাজার ৯১ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সর্বমোট রোগী ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯০ জন।

সর্বমোট ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ হাজার ৩৭৬ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় সর্বমোট ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৪০৬ জন এবং ঢাকার বাইরে সর্বমোট ছাড়প্রাপ্ত রোগী ৯৭০ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Categories
জীবনশৈলী

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

মারণব্যাধি ক্যানসারে ভয় কার নেই!এ সম্পর্কে সতর্ক হয়ে নিয়মমাফিক চললে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান এ রোগের জন্য দায়ী। এসব বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন।

* লাল মাংসে থাকে ক্যানসারের ঝুঁকি

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে হলে অবশ্যই লাল মাংস কম খেতে হবে। এ মাংস বেশি খেলে পাকস্থলী এবং কোলন ক্যানসারের আশংকা বেশি। সপ্তাহে ১৮ আউন্সের বেশি লাল মাংস খাওয়া যাবে না। লাল মাংস রক্তের কলস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

* সানস্ক্রিনের ব্যবহার

ক্যানসার থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি সানবার্নের চেয়েও ক্ষতিকর হতে পারে। আল্ট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন বা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। সূর্যের আলোতে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ক্রিকেট খেলার সময়ও ক্রিকেটারদের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। সানস্ক্রিনের মাত্রা হবে এসপিএফ ৩০ থেকে ৪০। সূর্যের আলো থেকে চোখের ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলোতে থাকলে চোখে ছানি পড়তে পারে।

* অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়

অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ক্যানসার ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে হৃদরোগ হয় এবং এ থেকে মৃত্যুঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়ে। অতিরিক্ত চিনি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তে অতিরিক্ত ফ্যাট মিশ্রিত হতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তনালিতে অতিরিক্ত ফ্যাটের কারণে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য হৃদরোগ হতে পারে। চিনিযুক্ত পানীয় পান করার ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা বেশি। মিষ্টি সোডা, স্পোর্টস ড্রিংক এমনকি শতভাগ ফলের রসও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা হয়। বিজ্ঞানীরা চিনিযুক্ত পানীয় এর সঙ্গে কোলন ক্যানসারের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পাননি।

* ক্যানসার প্রতিরোধে শাক-সবজি এবং ফল

শাক-সবজি এবং ফল মুখ, গলা, শ্বাসনালি এবং খাদ্যনালির ক্যানসার প্রতিহত করতে পারে। খাবারগুলোর মাঝে কিছু উপাদান রয়েছে যা কোষকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিন আড়াই কাপ ফল এবং সবজি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

* সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভরশীলতা

সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। সবজি, ফল এবং শস্যদানাসমৃদ্ধ খাবার ক্যানসার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। সাপ্লিমেন্ট কখনোই একই ধরনের উপকার দিতে সক্ষম নয়। সাপ্লিমেন্টে পুষ্টির ভারসাম্য থাকে না। সাপ্লিমেন্ট কিছু অবস্থায় সাহায্য করতে পারে কিন্তু ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে না।

* হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস

ক্যানসার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের টিকা নিতে হবে। এ ভাইরাস সংক্রমিত হয় সেক্সের মাধ্যমে। ভাইরাসটি আমাদের শরীরে বছরের পর বছর অবস্থান করতে পারে যা আমরা জানতেও পারি না। মহিলাদের সব ধরনের সারভাইক্যাল বা জরায়ু মুখের ক্যানসারের জন্য এ ভাইরাসটি দায়ী। এ ছাড়া পুরুষ ও মহিলা যৌনাঙ্গ, পায়ুপথ, মুখ এবং গলার ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে ভাইরাসটি। মেয়েরা টিকা নিতে পারে ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সের মধ্যে। ছেলেরা টিকা নিতে পারে ৯ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে। সেক্স করার সময় কনডম ব্যবহার করলে হিউম্যান প্যাপিওলোমা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসবে।

* ব্যায়ামে কমে ক্যানসারের ঝুঁকি

যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের কোলন, ব্রেস্ট এবং ইউটেরাসের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। যখন ব্যায়াম করেন তখন শরীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে থাকে। খাবার দ্রুত হজম হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি কিছু হরমোন তৈরি হতে বাঁধা দিয়ে থাকে যারা ক্যানসার সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিয়মিত ব্যায়াম ক্যানসার ছাড়াও হার্টের সমস্যা এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে থাকে।

* ধূমপান ত্যাগ করুন

ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার সৃষ্টি হয়ে থাকে। ধূমপানের কারণে হার্টের রোগ এবং ফুসফুসের রোগ হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে হার্টের রোগ নাম্বার ওয়ান কিলার ডিজিজ। আমাদের দেশে আশঙ্কাজনক হারে হার্টের রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অ্যালকোহল সেবন অথবা নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করলে শরীরের টিস্যু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ধীরে ধীরে লিভার ড্যামেজ হয়ে যায়। এ থেকে লিভার সিরোসিস এবং সবশেষে লিভার ক্যানসার হতে পারে। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস পজিটিভদের লিভার ক্যানসার হওয়ার আশংকা থাকে। যাদের ক্রনিক লিভারের সমস্যা রয়েছে, একের অধিক সেক্স পার্টনার রয়েছে অথবা ড্রাগ নেওয়ার বা নিডল শেয়ার করে থাকে তাদের হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস হওয়ার আশংকা রয়েছে। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের টিকা এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। যথাসময়ে বুস্টার ডোজ অবশ্যই নিতে হবে। একটি টিকার মাধ্যমে আপনি লিভার ক্যানসার, সিরোসিস অথবা লিভারের জটিল রোগ থেকে সহজেই রক্ষা পেতে পারেন।

* মুখের অভ্যন্তরে সাদা হলে

এ সংক্রমণ দেখা দিলে অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। মুখের রোগ লিউকোপ্লাকিয়ার যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। মুখের আলসারকে সামান্য আলসার ভেবে গ্রহণ করা ঠিক নয়। কখনো কখনো মুখের আলসার মুখের ক্যানসারের পূর্বাবস্থা হিসাবে দেখা দেয়।

Categories
জীবনশৈলী

রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে কি স্মৃতিশক্তি লোপ পায়?

linkedin sharing button

রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকলে শুধু হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে না, সেই সঙ্গে বাড়ে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও। শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে ব্রেনের অন্দরে টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদানের পরিমাণ বাড়তে থাকে। যার প্রভাবে একের পর এক ব্রেন সেলের মৃত্যু ঘটে। অ্যালঝাইমার্স বা স্মৃতি লোপের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। নিচের খাবারগুলো খেলে অল্প দিনেই কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করবে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মডার্ন হারবাল গ্রুপের হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক ডা. আলমগীর মতি।

বাদাম : কোলেস্টেরল কমাতে আখরোট এবং কাজু বাদাম দারুন কাজে আসে। এই দুটি বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। সকলেরই জানা হয়ে গেছে যে ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। বেশি মাত্রায় বাদাম আবার খাবেন না যেন! তাতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

মাছ : নিয়মিত মাছ খাওয়া শুরু করলে শরীরে উপকারি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ওটস : খারাপ কোলস্টেরলের মাত্রা কমাতে ওটসের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই খাবারটির অন্দরে থাকা ফাইবার একদিকে যেমন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, অন্যদিকে উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকে। শরীরের কোনো ক্ষতি হওয়ার পরিবর্তে দেহের নানা উপকার হতে থাকে।

ধনে বীজ : কোলেস্টেরল কমাতে এটির কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। এক গ্লাস পানিতে এক চামচ ধনে বীজের গুঁড়ো মিশিয়ে পানি একটু গরম করে নিতে হবে। তারপর পান করতে হবে। দিনে দুবার করে এই পানি খেলে দেখবেন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করেছে।

আমলা : এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ আমলা পাউডার মিশিয়ে প্রতিদিন খালি পেটে পান করা শুরু করুন। কয়েক সপ্তাহ এই ঘরোয়া টোটকাকে কাজে লাগালেই দেখবেন কোলেস্টেরল একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

কমলা লেবুর রস : এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং ফ্লেবোনয়েড, যা বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার : এক গ্লাস পানিতে এক চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে ফেলুন। দিনে দুবার এই পানীয়টি খেলে দেখবেন অল্প সময়ের মধ্যেই কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করবে।

সয়াবিন : প্রতিদিন ২৫ গ্রাম করে সয়া প্রোটিন খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ৫-৬ শতাংশ হারে কমতে শুরু করে। এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা যত কমে, তত হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

বিনস : ফাইবার সমৃদ্ধ এই প্রাকৃতিক উপাদানটিকে যদি রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, তাহলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনো আশঙ্কাই থাকে না।

মধু ও পেঁয়াজের রস : এক চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে একবার করে এই মিশ্রণ খান। টানা কয়েক মাস খেলেই দেখবেন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করেছে।

Categories
জীবনশৈলী

নারীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের লক্ষণ, কী করবেন?

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস) প্রজননক্ষম মহিলাদের একটি হরমোনজনিত রোগ। ১৪-৪৫ বছর বয়সি মহিলাদের ৬-১৪ শতাংশ (গড়ে ১০ শতাংশ) এ সমস্যায় ভুগেন; পিসিওএস এ বয়সি মেয়েদের অন্যতম হরমোনজনিত রোগ।                                                        পিসিওএস-এ আক্রান্ত বেশিরভাগ মহিলাদের মধ্যে উচ্চমাপের অ্যান্ড্রোজেন অথবা পুরুষ হরমোনগুলোর উপস্থিতি থাকে। মেয়েদের দেহে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন স্বাভাবিকের বেড়ে গেলে এর প্রভাবে ডিম্বাশয়ের আশপাশে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয়। ফলে ডিম্বাশয় থেকে যে ডিম্বাণু বড় হয়ে বের হওয়ার পথে বাঁধা সৃষ্টি হয় এবং এভাবে একসময় ডিম্বাণু বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে নিয়মিত ঋতুচক্র বাধাগ্রস্ত হয়। পিসিওএস প্রধানত কিশোরী ও নারীদের প্রজননক্ষম সময়ে হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।

* উপসর্গ

অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত রক্তস্রাব, মুখে ও শরীরে অত্যধিক লোম (পুরুষালি), মুখে ও শরীরের অন্যান্য অংশে ব্রণ। আরও কিছু শারীরিক সমস্যা এর সঙ্গে থাকতে পারে- তলপেটে ব্যথা, মকমলের মতো কালো ত্বক (ঘাড়, বগল ইত্যাদি জায়গায়), বন্ধ্যত্ব।

এ রোগীদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এদের অনেকেই দৈহিক স্থূলতায় আক্রান্ত হয়, নাকডাকা ও ঘুমের সময় হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ হওয়া, হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

লক্ষণ কী কী-

* অনিয়মিত মাসিক : বেশিরভাগ মেয়েদের ৪০ বা ৪৫ বা ৫০ দিন বা কারও কারও ক্ষেত্রে আরও বেশি দিন পর পর ঋতুস্রাব হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্প মাত্রায় ঋতুস্রাব হতে পারে, কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হয়। মাসের পর মাস ঋতুস্রাব বন্ধ থাকাও অস্বাভাবিক নয়। বয়ঃসন্ধিকালের শুরুতেই এ সমস্যা শুরু হতে পারে, প্রজননক্ষম সময়ে অন্য যে কোনো সময়েও এ সমস্যা শুরু হতে পারে।

* বন্ধ্যাত্ব : যতজন নারী সন্তান নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের একটা বড় অংশই পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের কারণে হয়। আর এ বন্ধ্যত্বের কারণ হলো-ঋতুচক্রের অনেকগুলোতেই ডিম্বাণুর অনুপস্থিতি। পুরুষালি হরমোনের অধিক মাত্রায় উপস্থিতিও এর বহিঃপ্রকাশ। এর ফলস্বরূপ নারী দেহে পুরুষদের মতো লোম দেখা দিতে পারে (হার্সোটিজম), মুখে বা শরীরের অন্যান্য জায়গায় ব্রণ হওয়া, পুরুষালি টাক পড়ে ইত্যাদি। প্রতি চারজনের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের নারীর তিনজনের দেহে এ লক্ষণগুলো থাকে।

* মেটাবলিক সিন্ড্রোম : এতে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত নারীর দেহে ইনস্যুলিন রেজিস্ট্রেন্সের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে-ক্রমশ দৈহিক ওজন বৃদ্ধি হওয়া, ক্ষুধা বৃদ্ধি পাওয়া, দুর্বলতা, স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা, ঘাড়ের পিছনে বা বগলে নরম কালো ত্বকের উপস্থিতি, রক্তের গ্লুকোজ কিছুটা বেড়ে যাওয়া, কলস্টেরল অস্বাভাবিক থাকা ইত্যাদি।

* রোগ শনাক্তকরণ

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম শনাক্ত করতে সচরাচর নিুলিখিত ক্রাইটেরিয়ার যে কোনো দুটির উপস্থিতি আবশ্যক-

নারীদেহে অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন হরমোন উপস্থিতির প্রমাণ, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ডিম্বাশয়ে সিস্ট।

* পরীক্ষা-নিরীক্ষা

সিরাম টেস্টোস্টেরন, পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং ওজিটিটি।

* চিকিৎসা

জীবন-যাত্রা ব্যবস্থাপনা : চিকিৎসার শুরুতেই খাদ্য ব্যবস্থাপনার দিকে গুরুত্বপূর্ণভাবে লক্ষ রাখতে হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনা রোগীর দৈহিক ওজন কাক্সিক্ষত মাত্রায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে, বিপাকীয় প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটাবে যাতে করে ইনস্যুলিন রেজিস্ট্রেন্স কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। আদর্শ জীবন-যাপন ব্যবস্থাপনা রোগীর হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের খাদ্য তালিকায় শর্করার আধিক্য কম থাকবে, শাকসবজি (আলু বাদে), রঙিন ফলমূল ও আমিষজাতীয় খাদ্য প্রাধান্য পাবে। দৈহিক ওজন বিবেচনায় রেখে শারীরিক শ্রমের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের অধিকাংশই তাদের শারীরিক লক্ষণগুলোকে খুব দ্রুত বুঝতে পারেন না। কেউ কেউ লক্ষণগুলো বুঝতে পারলেও সংকোচ বোধের কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেন। যেহেতু রোগটির ব্যাপকতা ও সুদূরপ্রসারী স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে, তাই প্রজননক্ষম বয়সের সব নারীকে তার এ সমস্যা আছে কিনা জানার জন্য হরমোন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

Categories
জীবনশৈলী

রক্ত ওঠানামা করে যেসব কারণে

রক্ত উঠানামা একটি জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা। কারো কারো ক্ষেত্রে রক্তচাপ খুব অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, আবার কখনও রক্তচাপ অস্বাভাবিক কমে যায়। এমনটি কোনো কোনো সময় বিপজ্জনক।

রক্তচাপ উঠানামা করার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মেডিনোভা হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. তৌফিকুর রহমান

রক্তচাপ কেন ওঠানামা করে

রক্তচাপ অনেক কারণে ওঠানামা করতে পারে। কিছু রোগীর কারণে, কিছু খাবারের কারণে, কিছু রক্তচাপ মাপার মেশিনের কারণে, কিছু রক্তচাপ মাপার পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে ও পরিবেশগত কারণে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে।

রোগীর কী কী কারণে রক্তচাপ ওঠানামা করে

রোগী দুশ্চিন্তা করলে রক্তচাপ হঠাৎ খুব বেড়ে যেতে পারে আবার দুশ্চিন্তা কমে গেলে বা নিয়ন্ত্রণে এলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে পারে। যদিও প্রাথমিকভাবে এই বাড়তি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সাময়িকভাবে কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ও দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ লাগতে পারে, পরবর্তীকালে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের আর প্রয়োজন নাও হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা বেশি করলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমেও যেতে পারে। রোগী যদি দীর্ঘদিন ধরে শরীরের ব্যথা কমানোর ওষুধ বিশেষ করে এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধ সেবন করে রোগীর রক্তচাপ বাড়তে পারে বা ওঠানামাও করতে পারে। রোগী যদি নিয়মিত ওষুধ না খায় বা মাঝেমাঝে ওষুধ বাদ দেয় তবে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে। রোগী যদি দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান তবে রক্তচাপ বাড়তে পারে বা ওঠানামা করতে পারে। রোগীর যদি কিডনিতে সমস্যা থাকে তাহলেও রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে। রোগীর যদি কিছু হরমোনজনিত রোগ যেমন হাইপারথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড গ্লান্ড থেকে বেশি বেশি থাইরয়েড হরমোন বের হওয়া রোগ) বা ফিওক্রোমোসাইটোমা (কিডনির উপরে অবস্থিত এড্রেনাল গ্লান্ডের টিউমার রোগ) জাতীয় রোগ হয় তবে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে।

কী কী খাবারের কারণে রক্তচাপ ওঠানামা করে

অতিরিক্ত কফি পান, চা পান ও ধূমপান করলে রক্তচাপ বাড়তে পারে।

রক্তচাপ মাপার মেশিনের তারতম্যের কারণে কি রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে

হ্যাঁ, বিভিন্ন প্রকারের রক্তচাপ মাপার মেশিন বিভিন্ন সময়ে ব্যবহারের কারণে রক্তচাপের মান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আবার দেখা যায় অটোমেটিক মেশিনে রক্তচাপ মাপার কয়েক মিনিট পরে আবার রক্তচাপ মাপলে আগের মাপের থেকে ভিন্নতা পাওয়া যায়।

রক্তচাপ মাপার কী পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে ও পরিবেশগত কী কী কারণে রক্তচাপ ওঠানামা করে

রক্তচাপ মাপার মেশিনের সঠিক সাইজ ব্যবহার না করলে, রক্তচাপ মাপার সময় কথা বললে, অনেক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের পর রক্তচাপ মাপলে বা হোয়াইট কোট হাইপারটেনশনের কারণে রক্তচাপের মান বেশি আসতে পারে।

হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন কী

অনেক রোগী চিকিৎসকের চেম্বারে আসার পর অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় টেনশন বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন, ফলে রক্তচাপ অনেক বেড়ে যায়, কিন্তু এসব রোগীর বাসায় বা অন্য সময় রক্তচাপ স্বাভাবিক বা কম থাকে, যেহেতু ডাক্তাররা সাদা এপ্রোন বা কোট পরিধান করে তাই এ সমস্যাকে হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন বলে।

Categories
জীবনশৈলী

৫-১১ বছর বয়সীদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু বৃহস্পতিবার

ঢাকার ২১ কেন্দ্রসহ সারাদেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ৫৫টি জোন ও ৪৬৫টি ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের (প্রাথমিকের শিক্ষার্থী) টিকাদান কর্মসূচি। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগামী ১৪ দিন চলবে এ কার্যক্রম।

বুধবার (২৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কর্তৃক শিশুদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম কর্মপরিকল্পনায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের ন্যায় বাংলাদেশ সরকার দেশের কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে ২৫ আগস্ট থেকে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের কোভিড-১৯ টিকাদানের আওতায় আনতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে এ শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পরে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভাসমূহের স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে এ টিকা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে শিশুদের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে।

টিকাদান লক্ষ্যমাত্রা

১. সারাদেশের প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ৫-১১ বছর বয়সী শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২. ২৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী ১৪ দিন ব্যাপী ১২টি সিটি কর্পোরেশনে ৫৫টি জোন ও ৪৬৫ টি ওয়ার্ড এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

৩. প্রতিদিন ১ হাজার ৮৬০টি টিকাদান টিম কাজ করবে।

৪. ২৫ আগস্ট ১২টি সিটি করপোরেশনের ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

টিকার ধরন

১. শিশুদের উপযোগী ফাইজার টিকা।

২. ডোজের সংখ্যা- ২

৩. ডোজের পরিমাণ ০.২ এমএল

৪. প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান- ৮ সপ্তাহ বা ৫৬ দিন

টিকাদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন—

১. সুরক্ষা ওয়েবপোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে ৫-১১ বছর বয়সসীমার শিশুদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করতে হবে।

২. যে শিশুদের জন্ম সনদপত্র নেই, তাদের অভিভাবকরা জন্ম সনদপত্র সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন করবেন।

৩. বিদেশি পাসপোর্টধারী শিশুদের সুরক্ষা ওয়েবপোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়ার পূর্বে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ধারিত ‘এক্সেল ছকে’ তথ্য দিতে করতে হবে।

কীভাবে টিকা পাবেন—

কোভিড-১৯ টিকা রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে নিজ নিজ স্কুলে ও পরবর্তীতে কমিউনিটি পর্যায়ে (স্কুল বহির্ভূত শিশু) নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রসমূহ

১. আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-১

২. উত্তরা গার্লস হাই স্কুল, জোন-১

৩. পল্লবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-২

৪. সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-২

৫. আমতলী স্টাফ ওয়েলফেয়ার বিদ্যালয়, জোন-৩

৬. মহাখালী আব্দুল হামিদ দর্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-৩

৭. হাজি ইউসুফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-৪

৮. কিশলয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-৪

৯. বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-৫

১০. বটমলি হোম বালিকা বিদ্যালয়, জোন-৫

১১. কুর্মিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  জোন-৬

১২. দক্ষিণখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  জোন-৭

১৩. ফায়দাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-৮

১৪. ডুমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন-৯

১৫. সাতারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোন ১০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রসমূহ

১. নীলক্ষেত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- জোন-১

২. বঙ্গভবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- জোন-২

৩. খিলগাঁওঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- জোন-২

৪. আজিমপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- জোন-৩

৫. সুরিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- জোন-৪

৬. করাতিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- জোন-৫

Categories
জীবনশৈলী

দাঁত নড়ে গেলে কী করবেন?

ছোটদের দুধ দাঁত নির্দিষ্ট সময় পর নড়ে গিয়ে পড়ে সেখানে স্থায়ী দাঁত ওঠার প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক হলেও স্থায়ী দাঁত নড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। কোনো না কোনো অস্বাভাবিক কারণে স্থায়ী দাঁত নড়ে যায় বা পড়ে যায়। মুখের সঠিক পরিচর্যার নিয়মিত অনুশীলন দাঁতের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে, সুস্থ দাঁত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম শর্ত।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন রাজ ডেন্টাল সেন্টারের দন্ত বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ।

দাঁত নড়ে যাওয়ার নানাবিধ কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

* দাঁতের ধারক কলাতে প্রদাহ : প্রতিটি দাঁত মাড়ি ও চোয়ালের হাড়ের সাহায্যে নিজ অবস্থানে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে। সঠিক উপায়ে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করলে অথবা যাদের দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকে তারা ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার না করলে ক্রমান্বয়ে দাঁতের ধারক কলাতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি উলটোদিক দিয়েও ঘটতে পারে, যেমন কোনো আক্রান্ত দাঁতের সংক্রমণ দাঁতের মধ্যকার মজ্জাকে নষ্ট করে চোয়ালের হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করে নানা ধরনের প্রদাহ, সিস্ট বা টিউমার করতে পারে যেখান থেকে ধারক কলা নষ্ট হয়ে দাঁত নড়ে যেতে পারে।

* আঘাত : দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষ থেকে মুখে আঘাত পেলে দাঁত নড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনা, বাসায় ছোট বাচ্চাদের কাছ থেকে আঘাত, একে অপরকে আঘাত করা, খেলার সময় পড়ে গিয়ে নতুবা ক্রিকেট খেলায় মাউথ গার্ড ব্যবহার না করার কারণে বল লেগে দাঁত নড়ে যেতে পারে। জোরে শক্ত কোনো কিছু কামড় পড়লেও দাঁত নড়তে পারে।

* হরমোনের প্রভাব : প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্যের জন্য প্রেগনেন্সির সময় ও মেনোপোজে হাড় ক্ষয় হয়ে দাঁতের মবিলিটি আসতে পারে।

* অসম কামড় : আমাদের মধ্যে অনেকের অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাঁতে দাঁত ঘষা বা কামড়ানোর বদভ্যাস আছে, যাকে ব্রুকসিজম বলা হয়। আবার অনেকের দাঁত এলোমেলো, উঁচুনিচু বা বাঁকা। এসব ক্ষেত্রে দাঁত পরিষ্কার রাখা কষ্টসাধ্য ও কোনো কোনো দাঁতে অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে দাঁত নড়ে যেতে পারে।

* হাড় ক্ষয় রোগ : অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ঘনত্ব কমে হাড় ক্ষয় অনেকের মধ্যেই দেখা য়ায়। ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি স্বল্পতায়ও হাড় ক্ষয় হতে পারে। হাড় ক্ষয় শরীরের সব হাড়কেই দুর্বল করে, তখন চোয়ালের হাড়ও ক্ষয় হয়ে দাঁত নড়ে যেতে পারে।

* চিকিৎসা থেকে : ভুল চিকিৎসায় ফিলিং বা ক্যাপের সঙ্গে স্বাভাবিক কামড় না মিললে বা পাশের দাঁতের সঙ্গে সংযোগ যথাযথ না হলেও দাঁত নড়ে যেতে পারে।

* অন্যান্য রোগ : শারীরিক ক্রনিক রোগ, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, ভিটামিনস মিনারেল বা অতিরিক্ত রক্ত স্বল্পতা বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপতিক্রিয়া যেমন উচ্চরক্তচাপ, বিষণ্নতা, ধূমপান থেকেও মাড়িতে প্রদাহের মাধ্যমে দাঁত নড়ে যেতে পারে।

* সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

প্রকৃত পরিচর্যার মাধ্যমে দাঁতকে সুস্থ ও মজবুত রাখা সম্ভব আজীবন। সঠিক পরিচর্চা বলতে সকালে নাস্তার পর ও রাতের খাবার শেষে দুমিনিট ধরে প্রতিটি দাঁতের পাঁচটি পৃষ্ঠকে পরিষ্কার করা, টুথপিক বা কাঠির পরিবর্তে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার, খাদ্য তালিকায় চিনির তৈরি মিষ্টিজাতীয় খাবারের পরিবর্তে মৌসুমি তাজা শাকসবজি, ফলমুল, দুধ, টকদই, ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছসহ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সিযুক্ত খাবারে উৎসাহিত হতে হবে। কোনো উপসর্গ না হলেও বছরে কমপক্ষে একবার ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শের বিষয়ে জোর তাগিত দেওয়া হয়। মুখ শুষ্ক বা অন্যান্য রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

মাড়ি ফোলা, বা রক্ত পড়া অনুভূত হলেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে স্কেলিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদভাবে দাঁতের পৃষ্ঠে জমে ওঠা ব্যাকটেরিয়াল প্ল্যাক বা ক্যালকুলাস দূর করতে হবে। তবে অবহেলা বা অধিক বিলম্ব হলে অনেক সময় রুট প্ল্যানিং, গ্রাফটিং, কামড় শুদ্ধকরন, বাইট প্লেট, স্প্লিনটিং-এর মতো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। দাঁত হারালে কৃত্রিম দাঁত সংযোজন অতি জরুরি, তা না হলে অন্য দাঁত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Categories
জীবনশৈলী

হার্টের রক্তনালিতে ব্লক কিনা বুঝবেন যেভাবে

হার্টের রক্তনালিতে ব্লক খুবই জটিল সমস্যা। সময়মতো ধরা না পড়লে বিপদ হতে পারে। এটি এমন এক ধরনের রোগ, যার শুরুর দিকে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু ক্রমাগত হার্টের ক্ষতি হতে থাকে এবং এক সময় রোগী হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিতে পড়ে।

হার্টের রক্তনালিতে ব্লক বোঝার উপায় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেসের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. তৌফিকুর রহমান।

* হার্ট ব্লক কী

শরীরের প্রত্যেকটি কোষে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য রক্তনালি রয়েছে। রক্ত সঞ্চালিত প্রক্রিয়ার কেন্দবিন্দুতে রয়েছে হৃৎপিণ্ড, যা ক্রমাগত সংকোচনের মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ করে থাকে। হৃৎপিণ্ডের কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহের জন্য রক্তনালি রয়েছে, যাদের করোনারি আর্টারি বলা হয়। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে গেলে অথবা রক্তনালিতে কোলস্টেরল জমে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হলে তাকে হার্ট ব্লক বলা হয়। করোনারি আর্টারিতে সংকোচন বা কোলস্টেরল জমে এ সমস্যার সৃষ্টি বলে মেডিকেলের ভাষায় এটি করোনারি আর্টারি ডিজিস বলা হয়।

* কেস স্টাডি

৪০ বছর বয়স্ক আহসান ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্তে উচ্চমাত্রায় কলস্টেরল রোগে ভুগছেন। তিনি ১০ বছর ধরে ধূমপান করেন। একদিন সকালে পার্কে হাঁটার সময় কিছুক্ষণ পর বুকে চাপ অনুভব করেন। এর পর তিনি ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তার তাকে পরীক্ষা করে ইসিজি ও ইকো রিপোর্ট স্বাভাবিক পান, কিন্তু ইটিটি পজিটিভ হলে এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন। এনজিওগ্রামে তার LyCX রক্তনালিতে একটি (৮৫ শতাংশ) ব্লক ধরা পড়ে। এর পর তার মনে বেশ কিছু প্রশ্নের অবতারণা হয়। সে প্রশ্নগুলো নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো।

* কী কী কারণে হার্টের রক্তনালিতে ব্লকেজ হতে পারে

সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে, ধূমপান করলে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ থাকলে বা রক্তে চর্বির আধিক্য থাকলে বা জেনেটিক (বংশগত) ও পারিবারিক কারণে হার্টের রক্তনালিতে চর্বির আস্তর জমে রক্তনালি ব্লকেজ হতে পারে।

* হার্টের রক্তনালিতে ব্লকেজ হলে কী কী সমস্যা হতে পারে

হার্টের রক্তনালিতে ব্লকেজ হলে রক্তনালি সরু হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে হার্টের মাংসপেশিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন ও খাবার পায় না। ব্যায়াম বা অধিক পরিশ্রমের সময় যখন অক্সিজেন ও খাবারের চাহিদা বেড়ে যায় তথাপি রক্ত সরবরাহ না বাড়লে হার্টে এক ধরনের তীব্র Chest discomfort বা বুকে চাপা ব্যথা অনুভূত হয়, যাকে অ্যানজাইনা বলে, ফলে Chronic stable angina হতে পারে। এ ছাড়া রক্তনালির চর্বির স্তর ফেটে গিয়ে এর ওপর রক্তের দানা জমা হয়ে রক্তনালি আংশিক বা পুরো বন্ধ হয়ে অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম বা হার্টঅ্যাটাক হতে পারে।

* কোন কোন ক্ষেত্রে Stenting বা রিং লাগানো অথবা Angioplasty করা হয়

হার্টের রক্তনালির ব্লক যদি Left main coronary artery বা বাঁদিকের মূল করোনারি ধমনিতে না হয় অথবা অন্যান্য করোনারির রক্তনালির উপযুক্ত জায়গায় হয় এবং তা একটি দুটি অথবা তিনটি রক্তনালিকেই আক্রান্ত করে তা হলে stenting বা রিং লাগানো সম্ভব। রক্তনালির তিন বা ততোধিক ব্লকের চিকিৎসায়ও Angioplasty বা রিং লাগানো যেতে পারে, যদি ব্লকগুলো উপযুক্ত জায়গায় হয় বা রোগী অপারেশন করতে অস্বীকার করে এবং রিং লাগাতে চায়। Left main coronary artery stenosis বা বামদিকের মূল করোনারি ধমনিতে ব্লক হলে সাধারণত বাইপাস সার্জারি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কার্ডিয়াক সেন্টারে ইন্টারভেনশনাল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ Interventional cardiologist left main বা বাঁদিকের মূল করোনারি ধমনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে রিং (Stenting) করছেন, বিশেষ করে Drug Eluting Stent আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে।

* হার্টের বাইপাশ অপারেশন না করে Stenting বা রিং বসানো যায় কিনা

বাইপাস সার্জারি না করে রিং (Stenting) করা হয়, যদি ব্লকগুলো রিংয়ের জন্য উপযুক্ত হয় অথবা রোগী বুক কেটে অপারেশন করতে রাজি না থাকে, তখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীদের আংশিক Revascularization করা যেতে পারে।

* বেলুন এনজিও প্লাস্টি কী

বেলুন এনজিও প্লাস্টি এক ধরনের হার্টের রক্তনালির আধুনিক চিকিৎসা, যেখানে রক্তনালিতে ব্লক হলে তা বেলুন দিয়ে ফুলিয়ে ব্লক দূর করা যায় বা ব্লকের মাত্রা কমানো হয়।

হার্ট ব্লক একটি গুরুতর সমস্যা। যার চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ জটিল। আর তাই উত্তম হলো কীভাবে হার্ট ব্লক প্রতিরোধ করা যায় তা জেনে সে মোতাবেক জীবনযাপন করা। হর্টি ব্লক প্রতিরোধের কিছু টিপস নিচে দেওয়া হলো—

* হার্ট ব্লক ও হার্টঅ্যাটাকের অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো ধূমপান। তাই ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।

* হার্টের জন্য ক্ষতিকর এমন খাবার বর্জন করতে হবে। যেমন সরল শর্করা, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট ইত্যাদি।

* শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএমআই (বডি মাস ইনডেস্ক) অনুযায়ী শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

* অহেতুক মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।

* নিয়মিত রক্তচাপ মেপে দেখা উচিত এবং রক্তে কলস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

হার্ট ব্লক একটি জটিল ব্যাধি তবে প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ঝুঁকি কিছুটা কমে যায়।