Categories
শিক্ষাঙ্গন

যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে ঢাবি-গ্লোব বায়োটেক

যৌথ সহযোগিতামূলক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

উপাচার্য লাউঞ্জে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, ফার্মেসি অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কয়েকজন গবেষক উপস্থিত ছিলেন।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড বিভিন্ন টিকা ও ওষুধ উদ্ভাবন, উৎপাদন ও উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান দুটি যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

Categories
শিক্ষাঙ্গন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে মাস্টার্সে ভর্তি শুরু

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স (নিয়মিত) প্রোগ্রামে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টা থেকে শুরু হবে।

এ ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। এই শিক্ষাবর্ষের ক্লাস ১৬ অক্টোবর ২০২২ তারিখ থেকে শুরু হবে।

আগ্রহী প্রার্থীরা ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মো. আতাউর রহমান

Categories
শিক্ষাঙ্গন

লুঙ্গি পরার জেরে ইবিতে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারি, আহত ১২

লুঙ্গি পরে ক্যাম্পাসে বের হওয়ার জেরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ ছাত্র আহত হয়েছেন। 

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ পার্শ্ববর্তী অনুষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৭ আগস্ট রাতে ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হুজ্জাতুল্লাহ লুঙ্গি পরে ক্যাম্পাসে ঘুরতে বের হন। এ সময় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম রিংকু তাকে ডেকে লুঙ্গি পরে বাইরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করায় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে রিংকু হুজ্জাতুল্লাহকে থাপ্পড় দেন। এ ঘটনার জেরে ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে হলে প্রবেশের সময় রিংকুকে হুজ্জাতুল্লাহ ও তার বন্ধু আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আল আমিনসহ দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন জুনিয়র মারধর করেন।

এ ঘটনার দুদিন পর শুক্রবার দুপুরে নামাজ শেষে ফেরার পথে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন ও তার বন্ধুরা চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের হাতে মারধরের শিকার হন।

আল আমিন বলেন, নামাজ শেষে আসার পথে অনুষদ ভবনের সামনে এলে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রিংকু, হামজা, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আশিক, লোকপ্রশাসন বিভাগের জামিলসহ তার বন্ধুরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেন। আমাকেসহ আমার বন্ধুদের মারধর করেন তারা। হামলাকারীরা সবাই ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল সোহাগের অনুসারী।

এরপর জিয়াউর রহমান হলের ডাইনিংয়ে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিককে দ্বিতীয় বর্ষের আল-আমিন ও তার বন্ধুরা মারধর করেন।

এ সময় হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শুভ্র ভৌমিক, অর্ক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ আশিকের।

এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ফের প্রতিশোধপরায়ন হয়ে উঠেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তার বন্ধুরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে লাঠি, স্ট্যাম্প, রড নিয়ে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানতে পেরে জিয়াউর রহমান হলে থাকা আল আমিনের বন্ধু ও সিনিয়ররাও রড ও লাঠি নিয়ে হলের মধ্যে মহড়া দিতে থাকেন। পরে সিনিয়র শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে এ মারামারির ঘটনা বারবার ঘটছে। নিরপেক্ষে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় যে বা যারা, এমনকি ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলেও প্রশাসনের কাছে তার সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাকে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব।

Categories
শিক্ষাঙ্গন

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম কবীর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম কবীরকে নেত্রকোনার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) এনামূল হক আরাফাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরাফাত জানান, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৮ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. গোলাম কবীরকে ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী তিনি যোগদানের তারিখ থেকে টানা চার বছর ভিসি পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর একই বছরের ২৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক উল্লাহ খানকে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৩১ জুলাই তার চার বছরের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে ভিসির পদটি শূন্য ছিল। অর্থাৎ ড. গোলাম কবীর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ভিসি হচ্ছেন।

Categories
শিক্ষাঙ্গন

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে যা করা প্রয়োজন

উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা শিক্ষায় যতটা উন্নত, তার চেয়ে বেশি উন্নত যুগোপযোগী শিক্ষায়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায়।

জার্মানিতে ৭৩, জাপানে ৬৬, সিঙ্গাপুরে ৬৫, অস্ট্রেলিয়ায় ৬০, চীনে ৫৫, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫০ শতাংশ মানুষ কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ।

সব উন্নত দেশে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলাম তৈরি করা হয়। আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে কারিগরি শিক্ষার হার ১৪ শতাংশ।

২০৩০ সালে এ হার ৩০ শতাংশের লক্ষ্য নিয়ে এগোলেও বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব তা দেখার বিষয়। বাস্তবে আন্তর্জাতিক কারিগরি শিক্ষার সংজ্ঞা ও ব্যানবেইসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি মূলত ১০ শতাংশের নিচে। নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা হতাশাজনক।

দেশে দেরিতে হলেও বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে এখন কারিগরি শিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা একসময় অপরিচিত ছিল। বঙ্গবন্ধু শিল্পমন্ত্রী থাকাবস্থায় ঢাকার বর্তমান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। কারিগরি শিক্ষার অবস্থার পরিবর্তনও হয়েছে ধীরে ধীরে। ১৯৯৬ সালে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন ট্রেডে শিক্ষার্থী ভর্তি চালু হয়। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় কারিগরি বিষয় চালু করা হলে অল্প সময়ে যুগোপযোগী এ শিক্ষা বিস্তার লাভ করবে। ধীরে ধীরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মান বাড়াতে হবে। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের মান মোটামুটি থাকলেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণভাবে মানসম্মত নয়। টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোও পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবল তৈরি করতে পারছে না। ফলে বিদেশে গিয়ে এদেশের কর্মীদের কম বেতনে চাকরি করতে হচ্ছে। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি বিদেশে কাজ করে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ উপার্জন করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও গার্মেন্ট শিল্পেও ভারতের লোকজন অ্যাডভাইজার হিসাবে উচ্চ বেতনে কাজ করছে। সেখানে আমাদের অদক্ষ শ্রমিকরা তাদের অধীনে চাকরি করছে খুবই কম বেতনে।

বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বেশি পরিবর্তন হয়েছে কারিগরি শিক্ষায়। একসময় কারিগরি শিক্ষায় পড়ার আগ্রহী শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন ছিল। ২০০৮-২০০৯ সালেও কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্ট ছিল ৫ শতাংশের নিচে। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের ঘোষণা দিয়ে বর্তমান সরকার উন্নতির প্রধান হাতিয়ার হিসাবে এ শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে ২০২০ সালে এ শিক্ষাকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোলেও লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি সরকার। সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেই দায়ী করে কারিগরি শিক্ষার সচেতন মহল। একটিমাত্র শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরিচালিত দেশের কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সিলেবাস প্রণয়নেও আধুনিকতা ও উপযোগিতার ঘাটতি আছে। অভিভাবকদের সচেতনতাও কারিগরি শিক্ষা প্রসারের অন্তরায়। আমাদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় মাধ্যমিক পাশের পর অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করতে ১০ বছর সময় লাগলেও ৪ বছরের ডিপ্লোমাসম্পন্ন একজন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার সমান স্কেলে বিভিন্ন দপ্তরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা তাদের মেধাবী সন্তানদের সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত করেন আর দুর্বল মেধার ছেলেমেয়েদের কারিগরি শাখায় ভর্তি করান। অথচ কারিগরি শাখার সিলেবাস সাধারণ শিক্ষা থেকে কোনো অংশেই কম বা দুর্বল নয়। কারিগরি শাখার সব শিক্ষার্থীকেই পদার্থ ও রসায়ন বিষয় বাধ্যতামূলক পড়তে হয়। বাড়তি পড়তে হয় ট্রেড বিষয়। দুর্বল মেধার পেছনের একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে কারিগরি শাখার পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের মতো সিলেবাস আয়ত্ত করা কঠিন।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ১২টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ৩ ঘণ্টায় দিতে হয় একজন কারিগরি শাখার নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে। এমনিতেই দুর্বল প্রকৃতির ছেলেমেয়েরা কারিগরি শাখায় আসে। তাদের জন্য ১২টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ৩ ঘণ্টায় দেওয়া প্রায় অসম্ভব। এটি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ২০২১ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত করোনার কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও আগামী বছর (২০২৩) থেকে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে যুগোপযোগী। ধীরে ধীরে প্রাথমিক স্তর থেকে কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হলে আরও দ্রুত এ শিক্ষার প্রসার ঘটবে। কারিগরির সব সিদ্ধান্ত সমান সুবিধা দেবে তা আশা করা কঠিন। সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান কিছুটা থাকলেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের অবস্থা করুণ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকও যুগোপযোগী মানের নয়। বিদ্যমান বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল কোর্স কারিগরি শিক্ষার হার বাড়ায় ঠিকই, কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা মূল শিক্ষায় দুর্বল থেকে যায়। দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব হয় না। টিটিসি ও জনশক্তি রপ্তানির আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির আওতাধীনে আনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ থেকে দক্ষতাবিহীন জনশক্তি রপ্তানি করায় কম রেমিট্যান্স আসছে। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির করতে পারলে রেমিট্যান্স প্রবাহ দ্বিগুণের বেশি হবে বলে আশা করা যায়। আমাদের শিল্পকারখানায় দেশীয় দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ হলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে বেশি বেতনে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগেরও প্রয়োজন হবে না। ফলে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স এবং দেশের ভেতরে দক্ষ শ্রমিকের মাধ্যমে উপার্জিত আয়ে দেশ অল্প সময়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে।

কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাবহারিক ক্লাসের যে বিধান তা বাস্তবায়ন হয় না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাবহারিক ক্লাসের কাঁচামাল, অবকাঠামো ও অন্যান্য বিষয় সহজলভ্য হলেও বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম ও দশম শ্রেণিতে নামকাওয়াস্তে ব্যাবহারিক হয়। একসময় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাবহারিক ক্লাসের কাঁচামালের সরবরাহ থাকলেও পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে এর কোনো অমিল নেই। এ অবস্থায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্তির বাস্তবায়নেও কোনো দিকনির্দেশনা পায়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা। সাধারণত দুর্বল মেধা ও আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীরা কারিগরি শাখায় ভর্তি হয়। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটাই চলে আসছে। কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা ইতিবাচক হতে সময় লাগবে। সাধারণত মধ্যম মেধার ছেলেমেয়েরা পলিটেকনিক, টেক্সটাইল, কৃষি বা অন্যসব ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হলেও এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় ভর্তি হয় কম মেধার ছেলেমেয়েরা।

সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আসল সমস্যা নীতিনির্ধারণে। বেসরকারিভাবে যেসব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠেছে, সেসবের মান নিয়েও আছে প্রশ্ন। সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেই যেখানে দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে, সেখানে বেসরকারির অবস্থা কোন পর্যায়ে তা অনুমেয়। সরকার প্রতি উপজেলায় একটি করে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে মানসম্মত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ না হলে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ব্যাহত হবে। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের সীমাবদ্ধতা না থাকা প্রতিক‚লতার আরেকটি কারণ। ব্রিটিশ আমল থেকেই আমরা দেখে আসছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের সীমাবদ্ধতা। হঠাৎ করে বয়স্কদের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগকে সচেতন মহল ভালোভাবে নেয়নি।

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরের কারিগরিসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মতামত নেওয়া যেতে পারে। হুট করে আÍঘাতী সিদ্ধান্ত কারিগরি শিক্ষার প্রসারে অন্তরায় হবে। কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ইতিবাচক দিক নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা যেতে পারে। একজন অভিভাবক তার সন্তানকে বেশি বয়সি কারও সঙ্গে পড়াশোনা করাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে না। আমাদের সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তন সহজেই সম্ভব নয়। সাধারণ শাখায় ইতিহাস, অর্থনীতি পড়া øাতক ডিগ্রিধারী বেকার যুবকের সংখ্যা লাখ লাখ। তারপরও অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে কারিগরি শাখায় ভর্তি করাতে চান না। কারিগরি শিক্ষাকে এখনো সাধারণ মানুষ ইতিবাচক মনে করছেন না।

সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম চালু করে যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে। ভালো ফলাফলের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতিতেও অনেক পরিবর্তন এনেছে। শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যা ও আন্তরিকতায় পরিচালিত হয় কারিগরি শিক্ষা। একসময় মুখস্থ বিদ্যার প্রতি শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিত শিক্ষকরা। তখন ক্লাসের বেশির ভাগ সময়ই শিক্ষকদের শিক্ষাদান করতে হতো। এখন পুরো সময়ে শিক্ষার্থীর ভ‚মিকাই বেশি। সৃজনশীল পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা নিজের মেধাকে কাজে লাগায় বেশি। শিক্ষক সেখানে শুধু প্রদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে। এসএসসি ভোকেশনাল কারিকুলামে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যারা ভর্তি হন, তাদের অধিকাংশই দুর্বল প্রকৃতির। এসব শিক্ষার্থীকে রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান কতটুকু ফলপ্রসূ হবে?

এ ব্যাপারে আমার পরামর্শ হলো-১. যুগোপযোগী সিলেবাসের সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জরুরি, তাই শিল্পকারখানায় প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া; ২. পর্যাপ্ত ব্যাবহারিক ক্লাস ও ব্যাবহারিক ক্লাসের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা এবং পরিবর্তিত সিলেবাসে শিক্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়া; ৩. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের সিলেবাস কমিয়ে অর্ধেকে আনা। বর্তমান সিলেবাসে এসএসসি ভোকেশনাল কারিকুলামে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ১২টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। কারিগরি শিক্ষায় এ বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না; ৪. কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসের কার্যক্রম বাড়ানো; ৫. ডিপ্লোমা কোর্সে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এবং ব্যাবহারিক ক্লাসের প্রতি গুরুত্বারোপ করা; ৬. শিক্ষা বাজেটে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রকৃত বরাদ্দ বৃদ্ধি করা; ৭. বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আরও দক্ষ শিক্ষক নেওয়া এবং ব্যাবহারিক ক্লাসের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাখা; ৮. ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর্যাপ্ত আসন ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা; ৯. পুরোনো কোর্স বাদ দিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী কোর্স চালু করা; ১০. উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করা; ১১. ডিপ্লোমা চাহিদাসম্পন্ন পদগুলোয় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের আবেদনের সুযোগ না দেওয়া; ১২. বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমাধারী ট্রেড ইনস্ট্রাকটরদের বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে একাডেমিক সুপার ও সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করা; ১৩. শিক্ষকদের জীবনমান বৃদ্ধি, এমপিওভুক্তি, বেতন সুবিধা আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা। অবহেলিত বেসরকারি শিক্ষকসমাজ যতটা অবহেলিত, তার চেয়ে বেশি অবহেলিত বেসরকারি কারিগরি শিক্ষকসমাজ। অধিদপ্তরের কাজের ধীরগতি এবং শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি ও বেতন স্কেলের জটিলতা নিরসনে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

Categories
শিক্ষাঙ্গন

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

স্বাস্থ্যবিধি

প্রশ্ন : পানিবাহিত এবং বায়ুবাহিত রোগের সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য কোথায়?

উত্তর : সাদৃশ্য : পানিবাহিত এবং বায়ুবাহিত রোগ- উভয়েই হলো সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে বায়ু বা পানির মাধ্যমে খুব দ্রুত একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এটাই উভয় রোগের সাদৃশ্য।

বৈসাদৃশ্য : পানিবাহিত ও বায়ুবাহিত উভয়ে সংক্রামক হলে এদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। যেমন-

* পানিবাহিত সংক্রমিত হয় পানির মাধ্যমে। দূষিত পানি পান করলে, দূষিত পানি দিয়ে হাত বা থালা-বাসন ধুলে দূষিত পানির মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

* আবার বিভিন্ন খাবার যেমন- রাস্তার খোলা খাবার, আমড়া, শসা, ফুচকা ইত্যাদির সঙ্গে দূষিত পানির খুব নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সবার অজান্তে এসব খাবারের মধ্য দিয়েও পানিবাহিত রোগ বিস্তার লাভ করে।

অপরদিকে, বায়ুবাহিত রোগের বিস্তার ঘটে দূষিত বায়ুর মাধ্যমে।

* বিভিন্ন প্রাণঘাতী বায়ুবাহিত রোগের জীবাণু যেমন- যক্ষা, হাম, বসন্ত, বাতাসের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে খুব দ্রুত অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

* আবার বায়ু দূষণের ফলে হাঁচি-কাশি, হাঁপানি, ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ বায়ুবাহিত নানা সাধারণ রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়।

* দূষিত বায়ুর জন্য মানুষের শ্বাসকষ্টও বাড়ছে। চীনের বেইজিং শহরের অধিবাসী পাহাড়ি এলাকা থেকে বিশুদ্ধ বাতাস কিনে তা ব্যবহার করে।

সুতরাং পানি ও বায়ুবাহিত রোগের মধ্যে উপরের সাদৃশ্য বা মিল এবং অসাদৃশ্য বা অমিল রয়েছে।

প্রশ্ন : হাঁচি-কাশির সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বা রুমাল ব্যবহার করে আমরা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। এ ক্ষেত্রে হাতের তালু ব্যবহার করার চেয়ে হাতের উল্টো পিঠ বা কনুইয়ের ভাঁজ ব্যবহার করা ভালো কেন?

উত্তর : হাঁচি-কাশির সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বা রুমাল ব্যবহার করে আমরা সংক্রমামক রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। এ ক্ষেত্রে হাতের তালু ব্যবহার করার চেয়ে হাতের উল্টো পিঠ বা কনুইয়ের ভাঁজ ব্যবহার করা ভালো। কারণ হাঁচি-কাশির মাধ্যমেও আমরা হাতের সাহায্যে রোগ ছড়াই। রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো রোগ জীবাণু বন্ধ করা। জীবাণু ছড়ানো বন্ধ করা রোগ থেকে বাঁচার ভালো অভ্যাস। আমরা হাঁচি-কাশির সময় হাতের উল্টো পিঠ ব্যবহার করলে জীবাণু হাতের উল্টো পিঠে থাকে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন কাজ করি হাতের তালু দেয়। ফলে হাতের উল্টো পিঠে লেগে থাকা জীবাণু আমার কাজের সংস্পর্শে আসবে না। আর এভাবেই আমরা খুব সহজে সাধারণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জীবাণু ছড়ানো বন্ধের মাধ্যমে সংক্রামক রোগের হাত থেকে বাঁচতে পারি।

সুতরাং হাতের উল্টো পিঠ খুব কম ব্যবহার হয় বলে জীবাণু ছড়ানো বন্ধের একটি সহজ উপায় এটি। তাই কাজের সময় হাতের উল্টো পিঠ বা কনুই কম ব্যবহার হয় বলে হাঁচি-কাশির সময় সংক্রামক রোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য এটি ব্যবহার করা ভালো।

মহাবিশ্ব

প্রশ্ন : সূর্যকে পূর্ব থেকে পশ্চিম আকাশে চলমান মনে হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : পৃথিবী প্রতি ২৪ ঘণ্টায় নিজ অক্ষে একবার সম্পূর্ণ ঘুরছে। আর এ কারণে প্রতিদিন সকালে সূর্য উঠে এবং সন্ধ্যায় আস্ত যায়। পৃথিবীর একদিক সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে এবং অপরদিক সূর্যের বিপরীতে থাকে। যে দিকটা সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে সেই দিকটায় দিন এবং যে দিকটা বিপরীত দিকে থাকে সেই দিকটায় রাত হয়।

প্রতিদিনের সূর্যকে দেখে মনে হয় যে, এটি সকালে পূর্ব দিকে উঠে এবং দিনের শেষে পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নিজ অক্ষের উপর পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণেই এমনটি হয়। পৃথিবীর এই ঘূর্ণনের কারণে সূর্য পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে তার অবস্থান পরিবর্তন করছে বলে মনে হয়।

সুতরাং, পৃথিবীর আপন কক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে বা আবর্তন করছে বলে সূর্যকে পূর্ব থেকে পশ্চিম আকাশে চলমান মনে হয়।

প্রশ্ন : পৃথিবীর অর্ধেক উত্তরাংশ সূর্যের দিকে হেলে পড়লে সূর্যের উচ্চতার কী ঘটে? তখন দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যরে কী পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর : পৃথিবীর অর্ধেক উত্তরাংশ সূর্যের দিকে হেলে পড়লে সূর্যের উচ্চতা, দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যরে নিচের পরিবর্তন ঘটে।

উচ্চতা : * তখন উত্তরাংশে গ্রীষ্মকাল আর দক্ষিণ অংশে শীতকাল বিরাজ করে। তাই উত্তরাংশে সূর্য আকাশের অপেক্ষাকৃত উঁচুতে অবস্থান করে।

* দক্ষিণাংশে তখন শীতকাল হওয়ায় সূর্য আকাশের অপেক্ষাকৃত নিচে অবস্থান করে।

দিনের দৈর্ঘ্য : * এ সময় উত্তরাংশে সূর্য খাড়াভাবে কিরণ দেয়। ফলে দিনের সময়কাল দীর্ঘ হয় এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

* এ সময় দক্ষিণাংশে সূর্য তির্যকভাবে কিরণ দেয়। ফলে দিনের সময়কাল কম হয়।

রাতের দৈর্ঘ্য : * উত্তরাংশে এ সময় গ্রীষ্মকাল থাকায় রাতের দৈর্ঘ্য কম হয়।

* দক্ষিণাংশে শীতকাল হওয়ায় রাতের দৈর্ঘ্য দিনের চেয়ে বেশি হয়।

সুতরাং, পৃথিবীর অর্ধেক উত্তরাংশে সূর্যের দিকে হেলে পড়লে সূর্যের উচ্চতা, দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যরে উভয় গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।

প্রশ্ন : কীভাবে সৌরজগৎ, মিল্কওয়ে গ্যালাক্সি ও মহাবিশ্ব সম্পর্কযুক্ত?

উত্তর : সৌরজগৎ : সূর্য এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু, ধূমকেতু, ধূলিকণা ও গ্যাস নিয়ে সৌরজগৎ গঠিত।

গ্যালাক্সি : সূর্য এবং গ্রহগুলো সৌরজগতের অংশ। আবার সৌরজগৎ গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত। গ্যালাক্সি হচ্ছে নক্ষত্রের একটি বিশাল সমাবেশ। আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে নামক গ্যালাক্সির অন্তর্গত। মিল্কিওয়ে দেখতে সর্পিলাকার।

মহাবিশ্ব : গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, গ্রহ, মহাশূন্য, সব পদার্থ এবং শক্তি এই সবকিছু নিয়েই গঠিত হয়েছে মহাবিশ্ব।

সম্পর্ক : * সৌরজগতের ৩য় গ্রহ হলো পৃথিবী। আর পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হলো চাঁদ। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩,৮৪,৪০০ কিমি.। আলো প্রতি সেকেন্ডে ৩,০০,০০০ কিমি. বেগে চলে। আর তাই চাঁদের আলো ১.৩ সেকেন্ডে পৃথিবীতে পৌঁছায়।

* পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫,০০,০০,০০০ কিমি. সূর্য থেকে পৃথিবীতে সূর্যের আলো পৌঁছে ৮ মিনিট পর।

* আমরা যদি আলোর গতিতে চলতে পারতাম তবে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে আমাদের ১,৩০,০০০ বছর সময় লাগত। স্যার এডিংটনের মতে, প্রতি গ্যালাক্সিতে গড়ে দশ সহস্র কোটি নক্ষত্র রয়েছে।

* কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে মহাবিশ্ব গঠিত। এর আকার কেউ জানে না। দিন দিন মহাবিশ্ব বড় হচ্ছে। মহাকাশ সম্পর্কিত গবেষণাকে বলা হয় জ্যোতির্বিজ্ঞান। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও উন্নত দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে প্রমাণ করেছেন যে, সৌরজগতের গ্রহগুলো সৌরজগতকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।

* মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছেন এবং মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করছেন।

Categories
শিক্ষাঙ্গন

বিষধরসহ ৪৭টি সাপের প্রাণ বাঁচিয়েছেন রাবি ছাত্র তাসিব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান তাসিব। পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ম্যানেজম্যান্ট স্ট্যাডিজ বিভাগে। মানুষ যেখানে স্বভাবতই সাপ দেখলে ভীতসন্ত্রস্ত হয়, লাঠি-সোটা নিয়ে মারতে উদ্যত হয়, এমনকি বাস্তুতন্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ প্রাণীটিকে দেখামাত্র মেরে ফেলে। সেখানে তাসিব নিজেই বাঁচিয়েছেন ১৯টি বিষধরসহ ৪৭টি সাপের প্রাণ।

পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে সাপের দা-কুমড়া সম্পর্কটাকে ঠিক করতে দীর্ঘ ৩ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে কিংবা হলে, দোকানপাটে কিংবা রাস্তাঘাটে যেখানেই সাপের দেখা মিলে সেখানেই ডাক পড়ে তাসিবের। আর সব কাজের ব্যস্ততা ফেলে ডাক পাওয়ামাত্রই ছুটে আসেন তিনি। সাপ যত্নসহকারে উদ্ধারের পাশাপাশি উপস্থিত সবাইকে সাপ সম্পর্কে সম্যক ধারণাও দেন তাসিব। ফলে ক্যাম্পাসে সাপ দেখলেই মেরে ফেলার প্রবণতাও কমে গেছে।

সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হল থেকে উদ্ধার করেছেন খৈয়া গোখরার মতো বিষধর সাপ। নিজে এবং নিজের উদ্ধারকাজের টিমের দ্বারা ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে এ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্তত ৪৭টি সাপ উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে অবমুক্ত করেছেন তিনি।

সাপ উদ্ধার করার মতো বিপজ্জনক কাজকে সাদরে আলিঙ্গন করার বিষয়ে কথা হয় মিজানুর রহমান তাসিবের সঙ্গে।

শুরুর গল্পে তাসিব বলেন, ছোটবেলা থেকেই যেকোনো পশু-পাখির প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা ছিল তার। রাবিতে ভর্তি হওয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে তিনি দেখেন ক্যাম্পাসে বাচ্চাসহ একটি সাপকে মারার পোস্ট দিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সচেতন করছেন কিছু শিক্ষার্থী। বিষয়টি দেখে মর্মাহত হন তিনি।

এরপরই বাংলাদেশের সব সাপ সম্পর্কে জ্ঞান আরোহণ করতে শুরু করেন এবং ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠনে যুক্ত হন তিনি। তারপর থেকে সাপ সম্পর্কে সব ধরনের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে বোঝাতে শুরু করেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীদের বোঝাতে ব্যর্থ হওয়ায় নিজেই সাপ উদ্ধার কাজ শুরু করেন বলে জানান এই শিক্ষার্থী।

তাসিব জানান, তার সাপ উদ্ধার কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১ অক্টোবরে। প্রথমদিকে নির্বিষ সাপগুলো উদ্ধার করতেন তিনি। এরপর ২০২১ সালের জুন মাসে ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক ফাউন্ডেশনের’ মাধ্যমে বিষধর গোখরা সাপ উদ্ধার করার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পান এই শিক্ষার্থী। তারপর ক্যাম্পাসে বা ক্যাম্পাসের বাইরের বিভিন্ন জায়গা থেকে জলঢোড়া, চিত্রিত ঢোড়া, বেত আছড়া, দাঁড়াশ, ঘরগিন্নি, মেটে এবং হেলে সাপের পাশাপাশি খৈয়া গোখরা এবং কালাচ বা পাতি কাল কেউটের মতো বিষধর সাপও উদ্ধার করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে করোনার পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিলে অক্টোবরের ১৪ তারিখে রাবির প্রত্যেকটি হলে সাপ না মেরে উদ্ধারের জন্য ফোন করার আহবান জানিয়ে একটি করে পোস্টার টানাই। পাশাপাশি হলের গার্ডদেরও সচেতন করি। আর এ কার্যক্রমের ব্যাপারে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ ফেসবুক গ্রুপেও সবাইকে জানাই। অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম খালেদা জিয়া হল, মাদার বখ্শ হল, তাপসী রাবেয়া হল, জোহা হল, শহীদ হবিবুর রহমান হল, শেরে বাংলা হল, পূর্বপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার, চারুকলা এবং পরিবহণ মার্কেট থেকে প্রায় ২০টির মতো সাপ উদ্ধার করি। যার মধ্যে মারাত্মক বিষধর খৈয়া গোখরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে উদ্ধারকৃত এশিয়ার অন্যতম বিষধর সাপ কালাচ বা পাতি কাল কেউটেও ছিল।

নিজে সাপ উদ্ধারের পাশাপাশি অন্যদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন তাসিব। তিনি বলেন, এ বছরের  ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাবির বিভিন্ন শিক্ষার্থী যারা সাপসহ প্রকৃতি নিয়ে ভাবে, কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশনের সাধারণ মেম্বার হিসেবে যুক্ত করি। প্রায় ২০ জন যুক্ত হয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাপ সংক্রান্ত বিস্তারিত ধারণা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে নিতে থাকে। তাদের ক্লাস শেষ। পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে তারা আমার সাথে সাপ উদ্ধার কাজে যাচ্ছে, সামনে থেকে সব শিখছে। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন রাসেল পূর্ণাঙ্গভাবে রেসকিউর কাজ শিখে নিয়েছে।

তাসিব জানান, রাবিতে সচরাচর যেসব সাপ দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভেমটা, মেটে, জলঢোড়া, দাঁড়াশ, বেত আছড়া, ঘরগিন্নি। এছাড়া বিষধর খৈয়া গোখরা এবং কালাচ বা পাতি কাল কেউটে সাপেরও দেখা মিলে।

সাপকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে এবং একটি সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার দাবি জানিয়ে তাসিব বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে সাপ উদ্ধারের পাশাপাশি অন্যান্য পশুপাখিও উদ্ধার কাজ করছি এবং বৃক্ষরোপণও করছি। উদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ আমাদের নেই এবং শিক্ষার্থী হওয়ায় নিজে নিজে সবকিছু ক্রয় করার সামর্থ্যও কম আমাদের। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করলে আমরা আরও ভালো কাজ করতে পারব।

তাসিবের এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, তাসিব স্বপ্রণোদিতভাবে যে কাজটি করছে এটি একটি অসাধারণ উদ্যোগ। এটা আমাদের নজরে এসেছে। সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এবং তার চাহিদার বিষয়গুলো জানালে আমরা তাকে সাহায্য করব।

Categories
শিক্ষাঙ্গন

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ছেলে–মেয়েসহ ৯ আত্মীয়ের নিয়োগ বাতিল

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শহীদুর রহমান খানের ছেলে-মেয়েসহ ৯ আত্মীয়ের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। 

উপাচার্য শহীদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে শহীদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলমের সই করা এক চিঠিতে উপাচার্যকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বিষয় বিশেষজ্ঞ’ ছাড়া একই ব্যক্তিদের দিয়ে বাছাই বোর্ড গঠন করে ২০টি বিষয়ে নিয়োগ দেওয়া ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করতেও বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার।

অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি করে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ছেলে, মেয়ে, শ্যালক-শ্যালিকার ছেলে ও ভাতিজাকে নিয়োগ দিয়েছেন শহীদুর। সব মিলিয়ে উপাচার্য নিজের পরিবারের সদস্য-আত্মীয়দের মধ্যে নয়জনকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি তার স্ত্রীকেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগে অনিয়মের এসব চিত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

Categories
শিক্ষাঙ্গন

খুকৃবির উপাচার্য হওয়ার প্রতিযোগিতায় ৮ শিক্ষক

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) উপাচার্য নিয়োগের প্রতিযোগিতায় বর্তমান উপাচার্যসহ রয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিতর্কিতরাও, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর খুকৃবির প্রথম এবং বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান খানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক খুকৃবির ভিসি হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে নিজেদের সিভি জমা দিয়েছেন।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খুকৃবির বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান খান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রফেসর ড. মো. সেকেন্দার আলী ও প্রফেসর ড. অলোক কুমার পাল, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রফেসর ড. আব্দুল কাশেম চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইচএসটিইউ) প্রফেসর ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রফেসর ড. মো. বশির আহমেদ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) প্রফেসর ড. মৃতুঞ্জয় কুন্ডু এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ। তবে এর বাইরে বাকৃবির প্রফেসর ড. মো. রকিবুল ইসলাম খানের নাম আলোচিত থাকলেও তিনি এখনো তার সিভি জমা দেননি। তবে খুব দ্রুত সিভি দেবেন বলে জানা গেছে।

যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, শেকৃবির সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সেকেন্দার আলী বাকৃবির ঈসা খা হলের ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি খুকৃবিতে ইন্টার্নশিপ চালু করার বিষয়ে উদ্যোগী হবেন। শেকৃবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও কন্ট্রোলার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রফেসর ড. অলোক কুমার পাল। তিনি নীল দলের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। খুকৃবিকে মডেল বিশ্ববিদ্যালয় করার ইচ্ছা তার। এইচএসটিইউ-এর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন খান। তিনি বিস্তৃত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি খুকৃবিকে গবেষণা বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চান। পবিপ্রবির রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. আব্দুল কাসেম চৌধুরী। নীল দল ও শিক্ষক সমিতির সঙ্গে জড়িত। একাডেমিক অ্যাটমোসফেয়ার, স্ট্রাকচারে গুরুত্ব দেবেন। সিকৃবির ফ্যাকালটি অব ফিশারিজের ডিন প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডু। গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের উপদেষ্টা। রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের ওপর গুরুত্ব দেবেন। বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ খুকৃবিকে গবেষণা ও কৃষিতে লিডিং পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. বশির আহমেদ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে জড়িত। তবে তার বাবা গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার রাজাকার মনি মিয়া। মনি মিয়ার রাজাকারের বিষয়টি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষের তৃতীয় খণ্ডের ১৩৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া কাশিয়ানি উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. এনায়েত হোসেন শনিবার দুপুরে মোবাইল ফানেও মনি মিয়ার রাজাকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে প্রফেসর ড. মো. বশির আহমেদ বলেন, তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম।

এদিকে বর্তমান খুকৃবির ভিসি প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান খান ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রথম ভিসি হিসাবে যোগদান করেন। গত চার বছরে তার পরিবারের ৯ জনকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি যুগান্তরকে জানান, নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি অস্থায়ী ক্যাম্পাস, ছাত্রাবাস এবং একাডেমিক ভবন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। পরিবহণব্যবস্থাসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনেক কিছুই করেছেন। করোনার কারণে জমি অধিগ্রহণের কাজ পিছিয়ে গেছে। তিনি পুনরায় দায়িত্ব পেলে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারবেন। পরিবারের সদস্য নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সব কাজ করা হয়েছিল।

Categories
শিক্ষাঙ্গন

জয়-লেখকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পার পাচ্ছেন রিভা

শিক্ষার্থী নির্যাতন, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের পাহাড় জমেছে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি ছাত্রী নির্যাতনের অডিও ভাইরাল হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের কাছের হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা মার্কেটিং বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় কলেজের রাজিয়া বেগম হলের ২০২ নম্বর কক্ষে হলের চার ছাত্রীকে গালাগাল এবং নানা হুমকি দেন। পরে এই ঘটনার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান। তবে কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হল ক্যান্টিন, ওয়াইফাই কোম্পানি ও কলেজের ফুটপাতের দোকানেও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, রিভার নেতৃত্বে শুধু আগস্ট মাসেই ওয়াইফাই প্রোভাইডার, কলেজ ও হল ক্যান্টিন এবং ফুটপাতের দোকান থেকে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে তীব্র অন্তর্কোন্দল রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য তামান্না জেসমিন রিভাকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

তবে এসব ঘটনার পরও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ হাত গুটিয়ে আছে। রিভার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, এত বড় ঘটনার পর তাকে ন্যূনতম কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অতীতে অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিভা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অনেকেই মনে করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রী যুগান্তরকে বলেন, এই যে শিক্ষার্থী নির্যাতনের এত বড় ঘটনা ঘটেছে। এটার কোনো প্রভাব রিভার ওপর পড়েনি। সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর ব্যবস্থা কেনই বা নেবেন, রিভা জয়-লেখকের কাছের মানুষ বলেই তো তাকে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বানানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, এই ঘটনার যদি কোনো বিচার না হয় তাহলে রিভা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। যা ছাত্রলীগেরই ক্ষতি করবে।

অভিযোগ ওঠার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোহান খান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অডিও ভাইরাল হয়েছে। সে বিষয়ে রিভা নিজে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষমা চেয়েছে। তার এই আচরণ ছাত্রলীগের আদর্শবিরোধী। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ইডেন কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেত্রীরা কেন এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের ছাত্র রাজনীতিবিমুখ করবে। তাই এই ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রিভার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি। পরে তাদের মোবাইল ফোনে খুদেবার্ত পাঠানো হলেও তারা তার কোনো উত্তর দেননি।